ভারতের মহাকাশ যাত্রায় নতুন ইতিহাস
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 31
২০২৬ সালের ১৮ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস তাদের ‘বিক্রম-১’ রকেট উৎক্ষেপণ করে। এটিই কোনো ভারতীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথম স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর প্রচেষ্টা। ছবি: রয়টার্স
ভারতের মহাকাশ অভিযানে যোগ হলো নতুন এক মাইলফলক। প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে তৈরি একটি কক্ষপথগামী (অরবিটাল) রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে ভারতীয় স্টার্টআপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace)। এই সাফল্যকে ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় নির্ধারিত উৎক্ষেপণের পর আকাশে উড়াল দেয় ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) রকেট। কিছু সময়ের প্রযুক্তিগত বিলম্বের পর উৎক্ষেপণ করা হয় রকেটটি। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই এটি সফলভাবে পৃথিবী থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে একাধিক গ্রাহক ও গবেষণামূলক পেলোড স্থাপন করে।
এই সাফল্যের মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা অর্জনকারী বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে নতুন স্বীকৃতি পেয়েছে ভারত।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ‘মিশন আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল রকেটের প্রপালশন, অ্যাভিওনিক্স, টেলিমেট্রি, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তব উড্ডয়নে পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতের নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।
কোম্পানির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মিশন আগমন ছিল দারুণ সফল। এটি একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি পরীক্ষার পর আমরা নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণে যাব।”
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ভারতের মহাকাশ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন যুগের অন্যতম পথিকৃৎ। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন ছুঁয়ে দেশের প্রথম ‘ইউনিকর্ন’ স্পেস স্টার্টআপে পরিণত হয়।
প্রায় ২২ মিটার লম্বা বিক্রম-১ রকেটটি নিম্ন-পৃথিবীর কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি ওজনের পেলোড বহনে সক্ষম। এতে রয়েছে তিনটি কঠিন জ্বালানিচালিত ধাপ এবং একটি তরল জ্বালানিচালিত অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল, যেখানে থ্রিডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে- যা ভারতের জন্য প্রথম।
রকেটটি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী স্যাটেলাইট ও গবেষণামূলক পরীক্ষামূলক পেলোড বহন করছে।
এর আগে ২০২২ সালে স্কাইরুটের বিক্রম-এস রকেট ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত সাব-অরবিটাল রকেট হিসেবে মহাকাশ স্পর্শ করেছিল। আর এবার বিক্রম-১-এর সফল অরবিটাল মিশনের মাধ্যমে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্প আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ভারত সরকার মহাকাশ খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে। এরপর থেকেই একের পর এক স্টার্টআপ রকেট, স্যাটেলাইট ও উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশ ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফল উৎক্ষেপণের পর স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স




































