বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 21
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত বিতর্কিত ভাস্কর্য সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা এবং বীরশ্রেষ্ঠের প্রকৃত অবয়বের সঙ্গে মিল না থাকার অভিযোগে এটি অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে নান্দনিক ও প্রকৃত আদলের ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কয়েক মাস পরই অজ্ঞাত কারণে থেমে যায় কাজ।
এরপর বছরের পর বছর ধরে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি পড়ে থাকে পরিত্যক্ত অবস্থায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে যে অবয়ব তৈরি করা হয়েছিল, তার সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠের প্রকৃত ছবি বা আকৃতির কোনো মিল ছিল না। অনেকের কাছে এটি একটি অপরিকল্পিত পাথরের স্থাপনার মতো মনে হয়েছে।
শুধু নান্দনিকতা নয়, স্থাপনাটির অবস্থান নিয়েও ছিল প্রশ্ন। ঢাকা-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ও যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে স্থাপনাটি নির্মাণ করায় যান চলাচলে তৈরি হচ্ছিল ঝুঁকি। চালকদের অভিযোগ, উঁচু বেদির কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যেত না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছিল।
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান পাওয়া বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে এমন একটি অপরিকল্পিত স্থাপনা মানানসই নয়। তাদের দাবি, যথাযথ গবেষণা ও নকশার মাধ্যমে নতুন একটি স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণ করা হোক।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান দেশের গর্ব। তাঁর নামে অসুন্দর বা অপরিকল্পিত কোনো স্থাপনা রাখা তাঁর প্রতি অসম্মানের শামিল। তাই প্রকৃত ছবি ও অবয়ব অনুসরণ করে নতুন ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, পুরোনো স্থাপনাটি আদৌ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আদলের কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝে থাকায় এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছিল। তাই অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন ভাস্কর্যের স্থান ও নকশা নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামীকাল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।































