ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক বদলির নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / 22

ছবি: প্রতীকী

ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে সরকার। সবচেয়ে আলোচিত ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বদলি কমিটিতে থাকবেন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী দুই ব্যক্তি। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বদলি কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে ৭টি নতুন শর্ত।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন শিক্ষক বদলি ও পদায়নের জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়- এই চার স্তরের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু অনলাইন বদলির পরিবর্তে আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া এবং কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষক সমাজে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল- ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ কারা, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকা। এতে রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির এবং অস্বচ্ছতার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।

সংশোধিত নীতিমালায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুই ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে দুইজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।

জাতীয় পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন। সদস্য থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)। আগে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব।

সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষক বদলির জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- চাকরির কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করা যাবে না। একবার বদলির পর তিন বছর না পেরোলে পুনরায় আবেদন করা যাবে না। কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা হবে। শিক্ষকের আবেদন ছাড়া বদলি করা যাবে না, তবে জনস্বার্থে জাতীয় কমিটির অনুমোদনে বদলি সম্ভব। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে বা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেখান থেকে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক আবেদন এলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অগ্রাধিকার পাবেন। নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর কর্মস্থলের কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়- চার স্তরের কমিটিই বদলির আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তি করবে। আন্তঃবিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন এলাকার বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি বিবেচনা করবে। এছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির কাছেই থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিক্ষক বদলির নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে সরকার। সবচেয়ে আলোচিত ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বদলি কমিটিতে থাকবেন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী দুই ব্যক্তি। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বদলি কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে ৭টি নতুন শর্ত।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন শিক্ষক বদলি ও পদায়নের জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়- এই চার স্তরের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু অনলাইন বদলির পরিবর্তে আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া এবং কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষক সমাজে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল- ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ কারা, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকা। এতে রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির এবং অস্বচ্ছতার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।

সংশোধিত নীতিমালায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুই ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে দুইজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।

জাতীয় পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন। সদস্য থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)। আগে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব।

সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষক বদলির জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- চাকরির কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করা যাবে না। একবার বদলির পর তিন বছর না পেরোলে পুনরায় আবেদন করা যাবে না। কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা হবে। শিক্ষকের আবেদন ছাড়া বদলি করা যাবে না, তবে জনস্বার্থে জাতীয় কমিটির অনুমোদনে বদলি সম্ভব। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে বা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেখান থেকে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক আবেদন এলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অগ্রাধিকার পাবেন। নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর কর্মস্থলের কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়- চার স্তরের কমিটিই বদলির আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তি করবে। আন্তঃবিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন এলাকার বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি বিবেচনা করবে। এছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির কাছেই থাকবে।