ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি গুঁড়িয়ে আগুন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়ি এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কেউ অবস্থান করছিলেন না।

লাভলু কাজীর অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা তার বাড়িতে হামলা চালান। তিনি দাবি করেন, প্রথমে এস্কেভেটর দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ঘরের মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলার নেতৃত্বে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সময় লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী ফেসবুক লাইভে এসে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ২০০৩ সালে জমিটি পাবলিক লাইব্রেরির নামে নিবন্ধিত হয়। এক পক্ষের দাবি, জমির কিছু অংশ লাভলু কাজীর মালিকানাধীন। অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছে, অধিকাংশ জমিই সরকারি গণগ্রন্থাগারের। জমি উদ্ধারের দাবিতে পটুয়াখালী সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহীন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙচুরের আলামত পেয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তিনি জানান, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত চলাকালেই এ ঘটনা ঘটেছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মির্জাগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি গুঁড়িয়ে আগুন

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়ি এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কেউ অবস্থান করছিলেন না।

লাভলু কাজীর অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা তার বাড়িতে হামলা চালান। তিনি দাবি করেন, প্রথমে এস্কেভেটর দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ঘরের মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলার নেতৃত্বে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সময় লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী ফেসবুক লাইভে এসে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ২০০৩ সালে জমিটি পাবলিক লাইব্রেরির নামে নিবন্ধিত হয়। এক পক্ষের দাবি, জমির কিছু অংশ লাভলু কাজীর মালিকানাধীন। অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছে, অধিকাংশ জমিই সরকারি গণগ্রন্থাগারের। জমি উদ্ধারের দাবিতে পটুয়াখালী সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহীন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙচুরের আলামত পেয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তিনি জানান, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত চলাকালেই এ ঘটনা ঘটেছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক