ছয় মাসে সাংবাদিকদের ওপর ৯৪ হামলা, উদ্বেগ কিউআরএসের
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 24
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কুইক রেসপন্স সাপোর্ট (কিউআরএস)। সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হামলা, আইনি হয়রানি ও অধিকার লঙ্ঘনের ৯৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে কিউআরএস জানায়, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস)-এর সহায়তায় এবং বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ভয়েস এসব ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ওপর সহিংসতা ও অন্যান্য অধিকার লঙ্ঘনের মোট ৯৪টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৯টি, মার্চে ৯টি, এপ্রিলে ২৪টি, মে মাসে ২৪টি এবং জুনে ৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
কিউআরএসের মতে, এসব ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্য জানার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, যশোরে মাদক পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক যশোর বার্তা–এর সাংবাদিক ও শার্শা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান রিমু হামলার শিকার হন। একইভাবে সাভারে মাদক পাচারের তথ্য সংগ্রহের সময় এসএ টিভির সাদ্দাম হোসেন ও তাইফুর রহমান তুহিন, দেশ টিভির মনিরুল হক কাইয়ুম এবং গাড়িচালক জয়নাল আবেদীন আহত হন।
এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে মানিকগঞ্জে আনন্দ টিভির সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান হামলার শিকার হন। রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান কভার করার সময় বাংলাদেশ প্রতিদিনের নেহাল আহমেদ প্রান্ত এবং বাংলাদেশ টাইমসের তাসবির ইকবাল পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
কিউআরএস আরও জানায়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের প্রবণতাও উদ্বেগজনক। খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও সময় টিভির প্রতিনিধি জিতেন বড়ূয়াকে একটি হামলার মামলায় গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে জামিন না দেওয়ার ঘটনাকে সংস্থাটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। একইভাবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলকে সমর্থনের অভিযোগ তুলে একটি অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়ে দৈনিক সকাল–এর সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির হামলার শিকার হন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জার্মান প্রেস এজেন্সি (ডিপিএ) ও ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওসিএবি)-এর সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠুকে গোয়েন্দা আপত্তির অজুহাতে বিমানবন্দরে আটকে দিয়ে বিদেশ ভ্রমণে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া বগুড়ায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সাংবাদিক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সাংবাদিকদের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
কিউআরএসের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভয়ভীতি, আইনি হয়রানি এবং চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি।
সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাংবাদিকদের ওপর সব ধরনের হামলার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা এবং তাদের কাজে অযথা বাধা সৃষ্টি না করারও আহ্বান জানিয়েছে কিউআরএস।



































