ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে জড়ানোর শঙ্কায় পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / 26

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে পাকিস্তান সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলার পর পাকিস্তানের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে ইসলামাবাদ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখবে। দেশটির কর্মকর্তারা একে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। চুক্তির আওতায় দেশটিতে পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে হুথিদের হামলায় এসব সেনা সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইসলামাবাদকে সৌদির পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে বর্তমানে পাকিস্তান সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে।

ইসলামাবাদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো, আঞ্চলিক সংঘাত বাড়লে লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে পাকিস্তানের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই। তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদ কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরান যুদ্ধে জড়ানোর শঙ্কায় পাকিস্তান

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে পাকিস্তান সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলার পর পাকিস্তানের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে ইসলামাবাদ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখবে। দেশটির কর্মকর্তারা একে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। চুক্তির আওতায় দেশটিতে পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে হুথিদের হামলায় এসব সেনা সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইসলামাবাদকে সৌদির পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে বর্তমানে পাকিস্তান সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে।

ইসলামাবাদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো, আঞ্চলিক সংঘাত বাড়লে লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে পাকিস্তানের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই। তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদ কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।