ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 11

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। বুধবার রাজধানীর মগবাজারে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। সীমান্তে মানুষকে গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, গত তিন মাসে সীমান্তে অর্ধশতাধিক পুশইনের ঘটনা ঘটেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশি পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে বিজিবি ও দেশপ্রেমিক জনগণের যৌথ অবস্থানের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে এবং ভিনদেশের স্বার্থ বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় যেকোনো মূল্যে পুশইন প্রতিহত করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গত তিন মাসে সারাদেশে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি তাদের নিজ দলের ১৮ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে এবং জামায়াতেরও চারজন নিহত হয়েছে। সরকারের নীরবতাকেই তিনি এসব ঘটনার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অধিকার, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং সরকার আগের মতোই ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং সংস্কারের কোনো প্রকৃত উদ্যোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ভূমিকার কারণে জনগণের আশা পূরণ হয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ লঙ্ঘন করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্তবিষয়ক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং এ পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট নয়।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিরও তীব্র সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে জনগণের ওপর চাপ বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ জুন চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হবে। নেতারা জানান, সংসদীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো: জামায়াত

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। বুধবার রাজধানীর মগবাজারে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। সীমান্তে মানুষকে গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, গত তিন মাসে সীমান্তে অর্ধশতাধিক পুশইনের ঘটনা ঘটেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশি পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে বিজিবি ও দেশপ্রেমিক জনগণের যৌথ অবস্থানের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে এবং ভিনদেশের স্বার্থ বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় যেকোনো মূল্যে পুশইন প্রতিহত করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গত তিন মাসে সারাদেশে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি তাদের নিজ দলের ১৮ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে এবং জামায়াতেরও চারজন নিহত হয়েছে। সরকারের নীরবতাকেই তিনি এসব ঘটনার প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অধিকার, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং সরকার আগের মতোই ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং সংস্কারের কোনো প্রকৃত উদ্যোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ভূমিকার কারণে জনগণের আশা পূরণ হয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ লঙ্ঘন করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্তবিষয়ক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং এ পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট নয়।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিরও তীব্র সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে জনগণের ওপর চাপ বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ জুন চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হবে। নেতারা জানান, সংসদীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।