স্থানীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট চায় জামায়াত
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 38
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ভোট শুরু করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাজধানীতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তার ইতিবাচক প্রভাব সারা দেশে পড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটিতে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন বা উপজেলা থেকে নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়া উচিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে। রাজধানীতে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হলে তা দেশের অন্যান্য এলাকার নির্বাচনের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে।
সরকারের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়াদ দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে, অথচ অনেক ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের মেয়াদ এখনো রয়েছে। তাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আগে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় সরকার নির্বাচন নিয়ে ভীত বা কোনো ধরনের কারসাজির পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তাদেরই দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, অন্যথায় সরকার রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক সুফল সবচেয়ে বেশি পেলেও ক্ষমতায় এসে দলটি ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। এসব বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদেশযাত্রা ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দুদককে নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
রাজধানীর নাগরিক সেবার অবনতিরও সমালোচনা করেন সেলিম উদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির কারণে ঢাকা নগরীর পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
































