এআই ঝুঁকি সম্মেলনে ড. ইউনূসের যৌথ স্বাক্ষর
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 11
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর পারমাণবিক অস্ত্রের সমন্বয় মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে- এমন সতর্কবার্তা দিয়ে বিশ্বনেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ভ্যাটিকানে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল নোবেল লরিয়েটস অ্যাসেম্বলি’-তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হলে এখনই দায়িত্বশীল বৈশ্বিক নেতৃত্ব, কার্যকর নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হয় রোমের ক্যাপিটোলাইন হিলে ‘হিউম্যানিটি অ্যাট দ্য থ্রেশহোল্ড’ শীর্ষক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন নোবেলজয়ী একসঙ্গে সতর্ক করেন- এআই ও পারমাণবিক অস্ত্রের যুগপৎ বিস্তার বিশ্বকে এক নতুন ও আরও বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা কমিয়ে দিতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং তথ্যযুদ্ধকে আরও ভয়াবহ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা দুর্বল করতে পারে।
ভ্যাটিকানের কাস্তেল গানদোলফোতে আয়োজিত উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ড. ইউনূস। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী জোডি উইলিয়ামস, মারিয়া রেসা, ডেনিস মুকওয়েগে, সাবেক কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস, ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রোদিসহ বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা।
ঘোষণাপত্রে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- এআই ও পারমাণবিক অস্ত্রকে ঘিরে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ, এআই প্রযুক্তির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে এআইকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা, জাতিসংঘের অধীনে এআই তদারকির আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠন, তরুণদের নেতৃত্বে দায়িত্বশীল প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিশ্বের সব পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্ত করার আহ্বান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে ভ্যাটিকান থেকে দেওয়া এই যৌথ বার্তা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ড. ইউনূসও জোর দিয়ে বলেছেন, মানবজাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।





































