সেনা নিহতের প্রতিশোধে ইরানে মার্কিন হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 45
ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের সক্ষমতা কমানো।
এর আগে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। আরও চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের হামলায় এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রথম সেনা হতাহতের ঘটনা বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির বাহিনী ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিলের কাছে কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির ঘাঁটি এবং কুয়েতের দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, কুয়েতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের সিরিক, হাজ্জিয়াবাদ ও কেশম দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেখানে বিদ্যুৎ ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই বর্তমানে দুই দেশের সংঘাত সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা বাড়ায় বৈশ্বিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অভূতপূর্ব শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এক মাস আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতিও স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।


































