ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার কাজ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 16

প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের ১২টি সরকারি কাজ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব কাজের মোট চুক্তিমূল্য ৭১ কোটি টাকার বেশি।

চুক্তির নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটির একটি রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড। এর ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও তাঁর ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। অন্য প্রতিষ্ঠানটি মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, যার মালিক প্রতিমন্ত্রীর ছেলে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ১২টি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস দুটি এবং মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ১০টি কাজ পেয়েছে।

শাহে আলম বিসিকের পরিচালক থাকা অবস্থায় তাঁর পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি পায়। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আরও প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি দেওয়া হয়।

এর মধ্যে বিসিক ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি দেয়। ওই সময় শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শাহে আলমের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগের। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে, খাবার লবণে আয়োডিন যুক্ত করতে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য ওই দরপত্র প্রকাশ করা হয়।

শাহে আলম ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বিসিকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তখন তিনি ব্যবসায়ী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বিসিকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বিষয়টিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের তাঁদের কর্তৃত্বাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকা উচিত। তথ্যগুলো সঠিক হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সন্তান তাঁদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলে তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্পর্ক পুরো সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন সরকারি কাজের চুক্তি পেতে শাহে আলম তদবির করেছিলেন। তবে শাহে আলম সরকারি কাজ পাইয়ে দিতে নিজের পদ ব্যবহার বা কোনো প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদেও সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির লাভজনক পদ, বেতনভুক্ত পদ বা মুনাফাভিত্তিক কোম্পানি, সমিতি কিংবা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিভিন্ন ঘটনায় শাহে আলমের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২৪ মার্চ আব্দুর রশীদ মিয়াকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাহে আলমের প্রভাবেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পাঁচ দিনের মাথায় ওই নিয়োগ বাতিল করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ওই নিয়োগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা নয়।

একাধিক কর্মকর্তার মতে, শাহে আলমের প্রভাব শুধু নিজ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়ন ও বদলিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে সচিবালয়ে আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও চিঠি পাঠানোর বিষয়েও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠে। চিঠি দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই ওসিকে বদলি করা হয়।

শাহে আলমের বক্তব্য

৩১ আগস্ট সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম তাঁর পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি কাজ পাওয়ার বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তাঁর ছেলের প্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ পৌরসভার যে দরপত্র পেয়েছিল, সেটি তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগের ঘটনা। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সময় নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড ও কার্যাদেশ দেওয়ার পর স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে হলফনামার মাধ্যমে কাজটি অন্য এক ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহে আলমের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর ছেলে পৌরসভা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে আর অংশ নেননি। তিনি প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কোনো পদে থাকা পর্যন্ত তাঁর ছেলের ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ারও ইচ্ছা নেই বলে জানান।

স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর ছেলের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই তিনি মনে করেন না, এটি স্বার্থের দ্বন্দ্বের আওতায় পড়ে।

তবে হলফনামার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অন্যের কাছে হস্তান্তর করলেই মালিকানা পরিবর্তিত হয় কি না; এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি।

বিসিকের পরিচালক থাকাকালে পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাওয়ার বিষয়ে শাহে আলম বলেন, তিনি সেখানে বোর্ড সদস্য ছিলেন এবং বোর্ড সদস্যদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তিনি দরপত্র আহ্বান, অনুমোদন কিংবা অর্থ পরিশোধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

তাঁর ভাষ্য, তাঁর কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিসিকে কাজ পেলেও তিনি সেটিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব মনে করেন না। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম ও বিধিবিধান মেনেই দরপত্র আহ্বান, কার্যাদেশ ও অর্থ পরিশোধ করেছে এবং বোর্ড সদস্য হিসেবে এসব প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।

চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিও চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহে আলম এ বিষয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি।

সূত্র: ডেইলি স্টার

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার কাজ

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের ১২টি সরকারি কাজ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব কাজের মোট চুক্তিমূল্য ৭১ কোটি টাকার বেশি।

চুক্তির নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটির একটি রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড। এর ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও তাঁর ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। অন্য প্রতিষ্ঠানটি মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, যার মালিক প্রতিমন্ত্রীর ছেলে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ১২টি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস দুটি এবং মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ১০টি কাজ পেয়েছে।

শাহে আলম বিসিকের পরিচালক থাকা অবস্থায় তাঁর পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি পায়। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আরও প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি দেওয়া হয়।

এর মধ্যে বিসিক ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি দেয়। ওই সময় শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শাহে আলমের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগের। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে, খাবার লবণে আয়োডিন যুক্ত করতে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য ওই দরপত্র প্রকাশ করা হয়।

শাহে আলম ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বিসিকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তখন তিনি ব্যবসায়ী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বিসিকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বিষয়টিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের তাঁদের কর্তৃত্বাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকা উচিত। তথ্যগুলো সঠিক হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সন্তান তাঁদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখলে তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্পর্ক পুরো সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন সরকারি কাজের চুক্তি পেতে শাহে আলম তদবির করেছিলেন। তবে শাহে আলম সরকারি কাজ পাইয়ে দিতে নিজের পদ ব্যবহার বা কোনো প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদেও সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির লাভজনক পদ, বেতনভুক্ত পদ বা মুনাফাভিত্তিক কোম্পানি, সমিতি কিংবা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিভিন্ন ঘটনায় শাহে আলমের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২৪ মার্চ আব্দুর রশীদ মিয়াকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাহে আলমের প্রভাবেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পাঁচ দিনের মাথায় ওই নিয়োগ বাতিল করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ওই নিয়োগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা নয়।

একাধিক কর্মকর্তার মতে, শাহে আলমের প্রভাব শুধু নিজ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়ন ও বদলিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে সচিবালয়ে আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও চিঠি পাঠানোর বিষয়েও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশ্ন ওঠে। চিঠি দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই ওসিকে বদলি করা হয়।

শাহে আলমের বক্তব্য

৩১ আগস্ট সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম তাঁর পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি কাজ পাওয়ার বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তাঁর ছেলের প্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ পৌরসভার যে দরপত্র পেয়েছিল, সেটি তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগের ঘটনা। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সময় নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড ও কার্যাদেশ দেওয়ার পর স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে হলফনামার মাধ্যমে কাজটি অন্য এক ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহে আলমের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর ছেলে পৌরসভা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে আর অংশ নেননি। তিনি প্রতিমন্ত্রী বা সরকারি কোনো পদে থাকা পর্যন্ত তাঁর ছেলের ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ারও ইচ্ছা নেই বলে জানান।

স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর ছেলের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই তিনি মনে করেন না, এটি স্বার্থের দ্বন্দ্বের আওতায় পড়ে।

তবে হলফনামার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অন্যের কাছে হস্তান্তর করলেই মালিকানা পরিবর্তিত হয় কি না; এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি।

বিসিকের পরিচালক থাকাকালে পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাওয়ার বিষয়ে শাহে আলম বলেন, তিনি সেখানে বোর্ড সদস্য ছিলেন এবং বোর্ড সদস্যদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তিনি দরপত্র আহ্বান, অনুমোদন কিংবা অর্থ পরিশোধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

তাঁর ভাষ্য, তাঁর কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিসিকে কাজ পেলেও তিনি সেটিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব মনে করেন না। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম ও বিধিবিধান মেনেই দরপত্র আহ্বান, কার্যাদেশ ও অর্থ পরিশোধ করেছে এবং বোর্ড সদস্য হিসেবে এসব প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।

চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিও চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহে আলম এ বিষয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি।

সূত্র: ডেইলি স্টার