সরকারি হাসপাতালে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
বরিশাল সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ছয় দফায় মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেককে হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করতে দেখা গেছে।
বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও কয়েকশ মানুষ। হাসপাতালটির জন্য আলাদা ‘সদর হাসপাতাল ফিডার’ থাকলেও লোডশেডিং থেকে রেহাই মিলছে না।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের পলাশপুর গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে এই ফিডার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাব-স্টেশনের লোডশেডিংয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৯ ঘণ্টায় হাসপাতাল ফিডারে মোট ৯ দফা লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিদ্যুৎহীন ছিল হাসপাতালটি।
এর মধ্যে ছয় দফায় এক ঘণ্টা করে এবং বাকি তিন দফায় যথাক্রমে ৪৫ মিনিট, ৩৮ মিনিট ও ১৭ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
হাসপাতাল ফিডারে ৩৯ ঘণ্টায় ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশপুর সাব-স্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) আবু জাফর মো. সালেহ। তাঁর দাবি, হাসপাতালের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই ফিডারে অন্যদের তুলনায় কম লোডশেডিং দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তখনও বিদ্যুৎ ছিল না। গরমে রোগী ও স্বজনদের কষ্ট করতে দেখা যায়। ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত টিনশেড ভবনে কয়েকটি শয্যায় ডেঙ্গু রোগীকেও মশারির ভেতর চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ফলে লোডশেডিং হলে বিকল্প হিসেবে মোমবাতি ও হাতপাখার ওপরই নির্ভর করতে হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, করোনাকালে জেনারেটরটি সচল করার চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এটি আর চালু করা সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএস ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখা হয়।
বিদ্যুৎ ঘাটতিতে নিয়মিত লোডশেডিং
ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগর ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য ৩৮টি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। এসব ফিডার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সাতটি সাব-স্টেশন। এর মধ্যে পলাশপুর সাব-স্টেশনের আওতায় রয়েছে সদর রোড, চকবাজার, সদর হাসপাতাল, আমানতগঞ্জ, পোর্ট রোড, তালতলী ও এমইপি ফিডার।
পলাশপুর সাব-স্টেশনে পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ মেগাওয়াট এবং অফপিকে ১৫ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৯ থেকে সাড়ে ৯ মেগাওয়াট। ফলে সাতটি ফিডারের মধ্যে একসঙ্গে অন্তত তিনটিতে লোডশেডিং দিতে হয়। কখনও চারটি ফিডারেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
সদর রোড ফিডারেও একই সময়ে একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে। অথচ এই এলাকায় ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
লোডশেডিং নিয়ে জনরোষের আশঙ্কা
পলাশপুর সাব-স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং নিয়ে তাঁদের প্রায়ই জনরোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি গভীর রাতে লোডশেডিং দেওয়ার পর স্থানীয় কয়েকশ মানুষ সাব-স্টেশনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
এ ছাড়া সদর রোড এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভিআইপিদের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকায় সেখানে লোডশেডিং দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে জরুরি অনুরোধ এলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার চেষ্টা করা হয়।
সাব-স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গ্রাহকের অনুরোধে লোডশেডিংয়ের পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে হয়। এতে পরবর্তী সময়ে প্রধান গ্রিড থেকে সাব-স্টেশনে অতিরিক্ত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
ওজোপাডিকোর বরিশাল গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৬০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতির কারণে বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।


























