ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষককে বহিষ্কারের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষককে বহিষ্কারের প্রতিবাদ

জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রগতিশীল চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন করে গুরুতর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তাঁর প্রতিনিধির জেরার সুযোগ থাকলেও অধ্যাপক এম. অহিদুজ্জামান লিখিতভাবে একাধিকবার আবেদন করার পরও তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়া সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করাকেও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির দাবি, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। এরপরও তাঁকে শাস্তি দেওয়া হলে তা পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞানচর্চা, প্রশ্ন ও মতপ্রকাশের পাশাপাশি অন্যায়ের সমালোচনা করবেন; এটাই একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্যের সমাধান যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষাবিদেরা যেন প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তির আশঙ্কায় নীরব হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষককে বহিষ্কারের প্রতিবাদ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রগতিশীল চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন করে গুরুতর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তাঁর প্রতিনিধির জেরার সুযোগ থাকলেও অধ্যাপক এম. অহিদুজ্জামান লিখিতভাবে একাধিকবার আবেদন করার পরও তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়া সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করাকেও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির দাবি, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। এরপরও তাঁকে শাস্তি দেওয়া হলে তা পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞানচর্চা, প্রশ্ন ও মতপ্রকাশের পাশাপাশি অন্যায়ের সমালোচনা করবেন; এটাই একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্যের সমাধান যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষাবিদেরা যেন প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তির আশঙ্কায় নীরব হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।