রানা প্লাজা মামলার রায় অক্টোবরে
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে অবহেলার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় আবারও পিছিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে বিচারক স্বপ্রণোদিতভাবে মামলাটি রায়ের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে অধিকতর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বিচারক নিজ উদ্যোগেই মামলাটি রায় ঘোষণার তালিকা থেকে তুলে নিয়েছেন। অধিকতর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে পরবর্তী সময়ে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন; সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।
আসামি সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ঘটনার পর ভবন নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নামে দুদক।
২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় শুরুতে তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়নি। পরে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রানা প্লাজা নামে সাততলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নকশা অনুমোদন দেয় সাভার পৌরসভা। পরে ভবনটির ওপর আরও কয়েকতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ২১ মে সোহেল রানাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। একই সময়ে আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিচারপর্বে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
রানা প্লাজা ধসের পর ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।















