বললেন আছিয়ার মা
‘দ্রুত রায় কার্যকর হোক, আছিয়া শান্তি পাবে’
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 107
মাগুরার আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে রায়কে কেন্দ্র করে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর মাগুরায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন আয়েশা খাতুন।
আছিয়ার মা বলেন, ‘আমি চাই, রায়টি দ্রুত কার্যকর হোক। নিজের কানে শুনতে এবং নিজের চোখে দেখতে চাই। তাহলে আমি আরও আশ্বস্ত হব, শান্তি পাব। আমার বিশ্বাস, আছিয়াও শান্তি পাবে।’
তিনি বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে যে নির্মম ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। কোনো মা-বাবাকে যেন সন্তানের এমন পরিণতি দেখতে না হয়।
আয়েশা খাতুন বলেন, ‘আছিয়ার মতো আর কোনো শিশু যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়। আমার মেয়ের মতো আর কোনো শিশুর জীবন যেন এভাবে শেষ না হয়।’
মেয়েকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি শান্তি পাচ্ছেন না বলে জানান আছিয়ার মা।
পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, আমার পরিবার ও সন্তানদের দিকে যেন খেয়াল রাখা হয়। আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। তবে অন্য সন্তানদের যেন নিরাপদে রাখতে পারি, সে জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।’
যেভাবে ঘটেছিল আছিয়ার সঙ্গে নির্মমতা
মামলার নথি ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ ওঠে, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় আছিয়াকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে ১৩ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।
মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ। এরপর দ্রুত মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের পর ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণসহ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত।
পরে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিপক্ষের আপিলসহ সংশ্লিষ্ট আবেদনের শুনানি হাইকোর্টে হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
হাইকোর্টের রায়ে আছিয়ার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এখন তাদের অপেক্ষা রায় কার্যকরের। মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই আছিয়ার মায়ের একমাত্র প্রত্যাশা—দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয়।





























