ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাভারে ডিবির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

মাদক ধরেই দরকষাকষি, লাখ টাকায় রফা!

এসএম আর শহিদ
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 91

মাদক ধরেই দরকষাকষি, লাখ টাকায় রফা!

একজনকে ধরে আনা হচ্ছে, অথচ তাঁর কাছে মাদক পাওয়ার কথা জানেন না প্রত্যক্ষদর্শীরা। কিছুক্ষণ পর সেই ব্যক্তির কাছ থেকেই মিলছে ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য। কোথাও হেরোইনের কথা বলে টাকা দাবি, কোথাও কয়েক কেজি গাঁজা উদ্ধারের পর মামলায় দেখানো হচ্ছে তার সামান্য অংশ। আর এসবের আড়ালে চলছে লাখ লাখ টাকার লেনদেন- এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দলের বিরুদ্ধে।

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানি, আটক ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং মামলায় মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর একাধিক তথ্য-প্রমাণ বাংলা অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী।

সাভারের বইলাপুর এলাকা। সম্প্রতি এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে এক যুবককে ৯০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এসআই মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে।

ওই পরিবারের অভিযোগ, ওই নারীর সঙ্গে তাদের ছেলের এক বন্ধুর পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। পরে ওই বন্ধু নারীকে নিয়ে পালিয়ে গেলে তাঁদের খুঁজে না পেয়ে ওই যুবককে আটক করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ৯০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

পরিবারের দাবি, ওই যুবককে আটকের সময় ঘটনাস্থলে অনেক লোক জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাঁর কাছে কোনো ইয়াবা বা অন্য মাদক দেখা যায়নি। পরে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবারটি। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর কাছ থেকে ডিবির দলটি আর্থিক সুবিধা নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর মডেল হাইস্কুলের পেছন থেকে এক নারীকে আটকের অভিযোগ ওঠে এসআই মতিউর ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্সের বিরুদ্ধে। ওই নারীর দাবি, আটকের সময় তাঁর কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে জোর করে হাতে হেরোইন দিয়ে ছবি তুলে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ওই নারী জানান, নিশ্চিন্তপুরের বুড়িপাড়া এলাকায় একটি ঝালমুড়ির দোকানের সামনে থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রিকশায় তুলে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে ডিবির একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাঁর হাতে জোর করে হেরোইন দেওয়া হয়। তিনি সেটি ফেলে দিলে এক নারী কনস্টেবল তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন।

ওই নারীর ভাষ্য, পাঁচ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়। আগামী তিন বছর নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

ঘটনাস্থলের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর সামনে থেকেই ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তিনি কোনো মাদক উদ্ধার করতে দেখেননি।

গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকা থেকে জাফর ও নাছিমা নামে দুজনকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও চার কেজি গাঁজাসহ আটকের অভিযোগ রয়েছে ডিবির ওই দলের বিরুদ্ধে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সাত লাখ টাকার বিনিময়ে নাছিমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ জন্য ডিবি কার্যালয়ের কাছের সুমনের একটি বিকাশের দোকানের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, জাফরের কাছ থেকে চার লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে চার কেজি গাঁজার পরিবর্তে মাত্র আধা কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চার লাখ টাকা হেমায়েতপুরের একটি ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তোলা হয়। বাকি ৫৫ হাজার টাকা জাফরের স্ত্রীর বিকাশ নম্বর থেকে সুমনের দোকানের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয় বলে দাবি সূত্রের।

এর আগেও আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার শমসের প্লাজার সামনে থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ জাফরকে আটকের পর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আমিনবাজারের বরদেশী এলাকা থেকে ‘হাতকাটা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

গত ৭ আগস্ট আমিনবাজার এলাকায় এক ব্যাক্তি ও তাঁর ছেলে আগুনকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১০ ও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে দাবি একটি সূত্রের।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক হোটেলমালিক ও মেম্বারের মধ্যস্থতায় অর্থের লেনদেন মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে কথিত উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুধু আমিনবাজার বা আশুলিয়া নয়, সাভারের অন্য এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, কাউন্দিয়া এলাকায় এক মাদক কারবারির বাবা-মাকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ৩ লাখ ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত ৪ আগস্ট সাভারের মজিতপুরে জাহাঙ্গীর ও তাঁর ভাইকে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই মতিউর ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া আশুলিয়ার শ্রীপুরের সুবন্ধী এলাকায় ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারির স্ত্রী ও ছেলেকে আটকের পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং ভাদাইল এলাকায় সুজনকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ সময় সুজনের সঙ্গে আটক নাজমুল ও আনোয়ারকেও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি সূত্রের।

এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এক সদস্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, মতিউর ও মেহেদীর বেপরোয়া চলাচল এবং তাঁদের দুজনের সিন্ডিকেটের কাছে অন্য সদস্যরাও অসহায়। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই অভিযানে বের হন। কোনো অভিযোগ উঠলে আর্থিক সুবিধা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে এসআই মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এএসআই মেহেদীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এএসআই মেহেদী ঢাকা জেলা উত্তর ডিবিতে টানা চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে এলাকায় তাঁর শক্তিশালী সোর্স নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, অভিযোগটি তিনিও শুনেছেন। কোনো তদন্ত কমিটি নয়, তিনি নিজেই বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাভারে ডিবির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

মাদক ধরেই দরকষাকষি, লাখ টাকায় রফা!

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

একজনকে ধরে আনা হচ্ছে, অথচ তাঁর কাছে মাদক পাওয়ার কথা জানেন না প্রত্যক্ষদর্শীরা। কিছুক্ষণ পর সেই ব্যক্তির কাছ থেকেই মিলছে ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য। কোথাও হেরোইনের কথা বলে টাকা দাবি, কোথাও কয়েক কেজি গাঁজা উদ্ধারের পর মামলায় দেখানো হচ্ছে তার সামান্য অংশ। আর এসবের আড়ালে চলছে লাখ লাখ টাকার লেনদেন- এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দলের বিরুদ্ধে।

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানি, আটক ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং মামলায় মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর একাধিক তথ্য-প্রমাণ বাংলা অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী।

সাভারের বইলাপুর এলাকা। সম্প্রতি এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে এক যুবককে ৯০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এসআই মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে।

ওই পরিবারের অভিযোগ, ওই নারীর সঙ্গে তাদের ছেলের এক বন্ধুর পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। পরে ওই বন্ধু নারীকে নিয়ে পালিয়ে গেলে তাঁদের খুঁজে না পেয়ে ওই যুবককে আটক করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ৯০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

পরিবারের দাবি, ওই যুবককে আটকের সময় ঘটনাস্থলে অনেক লোক জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাঁর কাছে কোনো ইয়াবা বা অন্য মাদক দেখা যায়নি। পরে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবারটি। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর কাছ থেকে ডিবির দলটি আর্থিক সুবিধা নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর মডেল হাইস্কুলের পেছন থেকে এক নারীকে আটকের অভিযোগ ওঠে এসআই মতিউর ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্সের বিরুদ্ধে। ওই নারীর দাবি, আটকের সময় তাঁর কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে জোর করে হাতে হেরোইন দিয়ে ছবি তুলে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ওই নারী জানান, নিশ্চিন্তপুরের বুড়িপাড়া এলাকায় একটি ঝালমুড়ির দোকানের সামনে থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রিকশায় তুলে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে ডিবির একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাঁর হাতে জোর করে হেরোইন দেওয়া হয়। তিনি সেটি ফেলে দিলে এক নারী কনস্টেবল তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন।

ওই নারীর ভাষ্য, পাঁচ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়। আগামী তিন বছর নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

ঘটনাস্থলের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর সামনে থেকেই ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তিনি কোনো মাদক উদ্ধার করতে দেখেননি।

গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকা থেকে জাফর ও নাছিমা নামে দুজনকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও চার কেজি গাঁজাসহ আটকের অভিযোগ রয়েছে ডিবির ওই দলের বিরুদ্ধে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সাত লাখ টাকার বিনিময়ে নাছিমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ জন্য ডিবি কার্যালয়ের কাছের সুমনের একটি বিকাশের দোকানের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, জাফরের কাছ থেকে চার লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে চার কেজি গাঁজার পরিবর্তে মাত্র আধা কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চার লাখ টাকা হেমায়েতপুরের একটি ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তোলা হয়। বাকি ৫৫ হাজার টাকা জাফরের স্ত্রীর বিকাশ নম্বর থেকে সুমনের দোকানের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয় বলে দাবি সূত্রের।

এর আগেও আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার শমসের প্লাজার সামনে থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ জাফরকে আটকের পর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আমিনবাজারের বরদেশী এলাকা থেকে ‘হাতকাটা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

গত ৭ আগস্ট আমিনবাজার এলাকায় এক ব্যাক্তি ও তাঁর ছেলে আগুনকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১০ ও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে দাবি একটি সূত্রের।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক হোটেলমালিক ও মেম্বারের মধ্যস্থতায় অর্থের লেনদেন মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে কথিত উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুধু আমিনবাজার বা আশুলিয়া নয়, সাভারের অন্য এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, কাউন্দিয়া এলাকায় এক মাদক কারবারির বাবা-মাকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ৩ লাখ ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত ৪ আগস্ট সাভারের মজিতপুরে জাহাঙ্গীর ও তাঁর ভাইকে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই মতিউর ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া আশুলিয়ার শ্রীপুরের সুবন্ধী এলাকায় ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারির স্ত্রী ও ছেলেকে আটকের পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং ভাদাইল এলাকায় সুজনকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ সময় সুজনের সঙ্গে আটক নাজমুল ও আনোয়ারকেও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি সূত্রের।

এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এক সদস্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, মতিউর ও মেহেদীর বেপরোয়া চলাচল এবং তাঁদের দুজনের সিন্ডিকেটের কাছে অন্য সদস্যরাও অসহায়। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই অভিযানে বের হন। কোনো অভিযোগ উঠলে আর্থিক সুবিধা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে এসআই মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এএসআই মেহেদীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এএসআই মেহেদী ঢাকা জেলা উত্তর ডিবিতে টানা চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে এলাকায় তাঁর শক্তিশালী সোর্স নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, অভিযোগটি তিনিও শুনেছেন। কোনো তদন্ত কমিটি নয়, তিনি নিজেই বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।