ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার নতুন অজুহাত জ্বালানি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 78

নিত্যপণ্যের বাজার

উচ্চমূল্যের বাজারে এমনিতেই চাপে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, দুধসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। কাঁচাবাজারেও বেড়েছে বেশ কিছু সবজির দাম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তথ্যেও এ চিত্র উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ীরা এতদিন সরবরাহ সংকটকে পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেখালেও এবার নতুন করে সামনে এসেছে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, পরিবহন খরচ বাড়লেও তার অজুহাতে পণ্যের দাম যৌক্তিক হারের চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়লেই তার প্রভাব দেখিয়ে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো যেন বাজারের নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা ঠেকাতে বাজারে নজরদারি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরাও।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

টিসিবির এক মাসের বাজারদর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাঝারি চালের দাম কেজিতে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সরু চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে প্যাকেট আটার দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ এবং প্যাকেট ময়দার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খোলা আটার দাম বেড়েছে ২ শতাংশ এবং ময়দার দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা গেছে একই প্রবণতা। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, দুই লিটারের বোতলে ৩ শতাংশ এবং পাঁচ লিটারের বোতলে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ২ শতাংশ।

ডালের মধ্যে বড় দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ছোলার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। কাঁচাবাজারে বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচের দামও ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের বাদামি ডিমের দাম হালিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। কিছুদিন আগেও যা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি ও সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ২ টাকা। খোলা ও প্যাকেটজাত আটা-ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত।

খোলা সয়াবিন তেলের দামও দোকানভেদে ভিন্ন। কোথাও প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা, কোথাও ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বড় দানার মসুর ডাল আগে সর্বনিম্ন ৯০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বেশির ভাগ দোকানে তা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও দেখা গেছে বাড়তি চাপ। বেগুন, শিম ও করলার মতো কয়েকটি সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্য অনেক সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সুগন্ধি চালের মধ্যে পোলাও চালের দাম বেড়ে ২১০ টাকা হয়েছে। প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে।

তরল দুধের দামও বেড়েছে। গত মাসে যে দুধ ১০০ টাকা লিটার দরে পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। একইভাবে কিছু দোকানে গরুর মাংসের দাম ৭৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে। তবে মুরগি ও খাসির দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, শুক্রবারের বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তাক আহমেদ বলেন, বাজারে প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়ছে। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নতুন করে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সীমিত আয়ে সংসারের বাজার খরচ সামলাতে গিয়ে এখন ধার-কর্জ করতে হচ্ছে। পণ্যের দাম সহনীয় ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কদমতলী এলাকার অটোরিকশাচালক মো. হাবিব রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। পণ্যের দাম যতটা বাড়ার কথা, অনেক সময় তার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যাদের আয় সীমিত, তাদের জন্য কেজিতে ২ টাকা দাম বাড়াও বড় চাপ। বাজারে এ প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে নিম্নআয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় তারা এখন নতুন করে আরও একটি অজুহাত পেয়েছেন। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন পণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভোক্তাদের ব্যয় ও দুর্ভোগ দুটোই বাড়ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় বাড়লে এর প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই পড়ে। কারণ পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার অনেক কিছুই সরাসরি যুক্ত। তবে এর সুযোগ নিয়ে বাজারে ঢালাওভাবে এবং যৌক্তিকতার বাইরে দাম বাড়ানো ঠেকাতে হবে। এ জন্য বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তেজগাঁওয়ের ডিমের পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমের দাম কিছুটা কমার দিকে যাওয়ার সময়ই ফিডের দাম আবার বেড়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ডিমের দাম কমার বদলে নতুন করে কিছুটা বেড়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চালের পাইকারি প্রতিষ্ঠান লাকসাম ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে সরু ও মাঝারি চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর পোলাও চালের ক্ষেত্রে বাজারে সংকটের কথা বলে মিলগুলো দাম বাড়িয়েছে।

নিউমার্কেটের একটি ব্র্যান্ডের তরল দুধের সরবরাহকারী জানান, সংগ্রহ পর্যায়ে দুধের দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে লিটারপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, আগাম শীতের সবজি বাজারে আসায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এখন পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে। ফলে কাঁচা পণ্যের দাম বেড়ে তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার নতুন অজুহাত জ্বালানি

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

উচ্চমূল্যের বাজারে এমনিতেই চাপে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, দুধসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। কাঁচাবাজারেও বেড়েছে বেশ কিছু সবজির দাম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তথ্যেও এ চিত্র উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ীরা এতদিন সরবরাহ সংকটকে পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেখালেও এবার নতুন করে সামনে এসেছে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, পরিবহন খরচ বাড়লেও তার অজুহাতে পণ্যের দাম যৌক্তিক হারের চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়লেই তার প্রভাব দেখিয়ে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো যেন বাজারের নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা ঠেকাতে বাজারে নজরদারি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরাও।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

টিসিবির এক মাসের বাজারদর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাঝারি চালের দাম কেজিতে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সরু চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে প্যাকেট আটার দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ এবং প্যাকেট ময়দার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খোলা আটার দাম বেড়েছে ২ শতাংশ এবং ময়দার দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা গেছে একই প্রবণতা। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, দুই লিটারের বোতলে ৩ শতাংশ এবং পাঁচ লিটারের বোতলে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ২ শতাংশ।

ডালের মধ্যে বড় দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ছোলার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। কাঁচাবাজারে বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচের দামও ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের বাদামি ডিমের দাম হালিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। কিছুদিন আগেও যা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি ও সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ২ টাকা। খোলা ও প্যাকেটজাত আটা-ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত।

খোলা সয়াবিন তেলের দামও দোকানভেদে ভিন্ন। কোথাও প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা, কোথাও ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বড় দানার মসুর ডাল আগে সর্বনিম্ন ৯০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বেশির ভাগ দোকানে তা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও দেখা গেছে বাড়তি চাপ। বেগুন, শিম ও করলার মতো কয়েকটি সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্য অনেক সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সুগন্ধি চালের মধ্যে পোলাও চালের দাম বেড়ে ২১০ টাকা হয়েছে। প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে।

তরল দুধের দামও বেড়েছে। গত মাসে যে দুধ ১০০ টাকা লিটার দরে পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। একইভাবে কিছু দোকানে গরুর মাংসের দাম ৭৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে। তবে মুরগি ও খাসির দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, শুক্রবারের বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তাক আহমেদ বলেন, বাজারে প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়ছে। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নতুন করে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সীমিত আয়ে সংসারের বাজার খরচ সামলাতে গিয়ে এখন ধার-কর্জ করতে হচ্ছে। পণ্যের দাম সহনীয় ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কদমতলী এলাকার অটোরিকশাচালক মো. হাবিব রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। পণ্যের দাম যতটা বাড়ার কথা, অনেক সময় তার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যাদের আয় সীমিত, তাদের জন্য কেজিতে ২ টাকা দাম বাড়াও বড় চাপ। বাজারে এ প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে নিম্নআয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় তারা এখন নতুন করে আরও একটি অজুহাত পেয়েছেন। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন পণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভোক্তাদের ব্যয় ও দুর্ভোগ দুটোই বাড়ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় বাড়লে এর প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই পড়ে। কারণ পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার অনেক কিছুই সরাসরি যুক্ত। তবে এর সুযোগ নিয়ে বাজারে ঢালাওভাবে এবং যৌক্তিকতার বাইরে দাম বাড়ানো ঠেকাতে হবে। এ জন্য বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তেজগাঁওয়ের ডিমের পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমের দাম কিছুটা কমার দিকে যাওয়ার সময়ই ফিডের দাম আবার বেড়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ডিমের দাম কমার বদলে নতুন করে কিছুটা বেড়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চালের পাইকারি প্রতিষ্ঠান লাকসাম ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে সরু ও মাঝারি চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর পোলাও চালের ক্ষেত্রে বাজারে সংকটের কথা বলে মিলগুলো দাম বাড়িয়েছে।

নিউমার্কেটের একটি ব্র্যান্ডের তরল দুধের সরবরাহকারী জানান, সংগ্রহ পর্যায়ে দুধের দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে লিটারপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, আগাম শীতের সবজি বাজারে আসায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এখন পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে। ফলে কাঁচা পণ্যের দাম বেড়ে তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।