ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 126

নরসিংদীতে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, আতঙ্ক

নরসিংদী শহরের শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সনেট ও আবু লাল নামে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের সংঘাত এখন চৌয়ালা-শালিধা ছাড়িয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রেও দুই গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

গত ২ অক্টোবর দিনের বেলায় চৌয়ালা লোকমান হোসেন স্কুলসংলগ্ন এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সনেট গ্রুপের সদস্য শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। নিহত বাবু ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনিও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন।

এর আগে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সদস্যরা একাধিকবার অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সনেটকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে কিছুদিন আগে আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এর জের ধরে গত ২ অক্টোবরের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌয়ালার তালতলা এলাকায় আবারও গোলাগুলি হয়। এতে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ওরফে মিশরী বিল্লাল এবং ইয়াসিন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুজনই আবু লাল গ্রুপের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চান না। তবে দুই গ্রুপের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান বলেন, শুক্রবারের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ বিল্লাল ও ইয়াসিন আবু লাল গ্রুপের সদস্য। এ ঘটনায় কাউসার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে আবু লাল গ্রুপের সদস্য সাইফুলকেও আটক করেছে পুলিশ। দুই গ্রুপের প্রধানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নরসিংদীতে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নরসিংদী শহরের শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সনেট ও আবু লাল নামে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের সংঘাত এখন চৌয়ালা-শালিধা ছাড়িয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রেও দুই গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

গত ২ অক্টোবর দিনের বেলায় চৌয়ালা লোকমান হোসেন স্কুলসংলগ্ন এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সনেট গ্রুপের সদস্য শহিদুল্লাহ ওরফে বাবু (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। নিহত বাবু ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনিও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন।

এর আগে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সদস্যরা একাধিকবার অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সনেটকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে কিছুদিন আগে আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এর জের ধরে গত ২ অক্টোবরের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌয়ালার তালতলা এলাকায় আবারও গোলাগুলি হয়। এতে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ওরফে মিশরী বিল্লাল এবং ইয়াসিন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুজনই আবু লাল গ্রুপের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চান না। তবে দুই গ্রুপের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান বলেন, শুক্রবারের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ বিল্লাল ও ইয়াসিন আবু লাল গ্রুপের সদস্য। এ ঘটনায় কাউসার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে আবু লাল গ্রুপের সদস্য সাইফুলকেও আটক করেছে পুলিশ। দুই গ্রুপের প্রধানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশ বদ্ধপরিকর।