অস্তিত্ব সংকটে নরসিংদীর টেক্সটাইল শিল্প
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 37
দেশের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নরসিংদী। একসময় হস্তচালিত তাঁতের জন্য পরিচিত এ জনপদে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য আধুনিক টেক্সটাইল ও পাওয়ারলুম কারখানা। চৌয়ালা, মাধবদী, বিলাসদী, খাটেহারা, হাজীপুর, হাসনাবাদ ও কারারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত এ শিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে লাখো মানুষের। তবে নানা সংকটে এখন অস্তিত্বের ঝুঁকিতে পড়েছে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল শিল্প।
সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিকদের অভিযোগ, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, সুতার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কাপড়ের বাজারদরের অসামঞ্জস্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে কাপড়ের দাম না বাড়ায় অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
নরসিংদীর টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে পাওয়ারলুম, স্পিনিং মিল, সাইজিং মিল, সুতা ও কাপড়ের ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত জড়িত। প্রতিটি স্তরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অসংখ্য শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। ফলে এ শিল্পে সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায়।
পাওয়ারলুম মালিকদের ভাষ্য, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাঁদের পুঁজি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুতা ব্যবসায়ীদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পাওয়ারলুম মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সুতার প্যাকেট বা বস্তায় নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ না থাকায় ক্রেতাদের প্রকৃত দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। একই দিনে একাধিকবার সুতার দাম পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি তাঁদের। এতে উৎপাদন ব্যয় হিসাব করা এবং কাপড়ের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
পাওয়ারলুম মালিকদের দাবি, সুতার বাজারে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রতিটি প্যাকেট বা বস্তায় মূল্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের চাপ কমানো এবং শিল্পের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, নরসিংদীর টেক্সটাইল শিল্প কেবল ব্যবসার ক্ষেত্র নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো শ্রমিকের জীবিকা, অসংখ্য পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দেশের বস্ত্র সরবরাহব্যবস্থা। তাই এ শিল্পের সংকট মোকাবিলায় মালিক, শ্রমিক, সুতা উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তাঁদের মতে, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ঐক্য ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
























