ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল-চীনে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার, নিখোঁজ ৪৪৬২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

নেপাল-চীনে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার, নিখোঁজ ৪৪৬২

হিমালয়ে নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও ৪ হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে নেপালের অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে এখনো ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

দুই দেশের হিসাব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৪৬২ জন। তাদের মধ্যে ৮৪৪ জন বিদেশি।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহে ফাটল সৃষ্টি হয়। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নেমে তা ভয়াবহ কাদামাটি ও পানির স্রোতে পরিণত হয়। পরে সেই স্রোত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপত্যকা দিয়ে নেমে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

নেপালে রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত বা শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্ত এলাকাও পানির স্রোত ও ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপাল মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণে রিমোট-সেন্সিং প্রযুক্তি এবং ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত পৃথক দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, তারা ১০ ঘণ্টা হেঁটে গিরং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেও চীনের অংশে কোনো ভবন বা অবকাঠামোর চিহ্ন খুঁজে পাননি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেপাল-চীনে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার, নিখোঁজ ৪৪৬২

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমালয়ে নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও ৪ হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে নেপালের অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে এখনো ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

দুই দেশের হিসাব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৪৬২ জন। তাদের মধ্যে ৮৪৪ জন বিদেশি।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহে ফাটল সৃষ্টি হয়। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নেমে তা ভয়াবহ কাদামাটি ও পানির স্রোতে পরিণত হয়। পরে সেই স্রোত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপত্যকা দিয়ে নেমে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

নেপালে রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত বা শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্ত এলাকাও পানির স্রোত ও ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপাল মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণে রিমোট-সেন্সিং প্রযুক্তি এবং ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত পৃথক দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, তারা ১০ ঘণ্টা হেঁটে গিরং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেও চীনের অংশে কোনো ভবন বা অবকাঠামোর চিহ্ন খুঁজে পাননি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি