বোয়িং কেনা নিয়ে দুই মন্ত্রীর ভিন্ন বক্তব্য
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 10
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার কারণ নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাট বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে বোয়িং কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেছেন, কোনো চাপ বা অনুরোধের কারণে নয়, দেশের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হবে।
সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাট বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আবদার ছিল; তাদের বোয়িংগুলো যেন ব্যবহার করা হয়। আমরা সেগুলো কিনছি এবং ব্যবহার করছি।’
তিনি জানান, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং আরও কিছু বিমান লিজ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে তৈরি এয়ারবাসও কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিমান খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে পরদিন মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বোয়িং কেনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, কোনো চাপের কারণে নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিমানের ৭০ থেকে ৮০টি উড়োজাহাজের প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রয়োজনের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হবে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং আমরা কিনতে থাকব। কোনো চাপে নয়, প্রয়োজনেই কেনা হবে।’
ফলে বোয়িং কেনার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ রয়েছে কি না, তা নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী যেখানে ট্রাম্পের ‘আবদার’কে বোয়িং কেনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে দেশের বিমান খাতের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
এদিকে, ভারতের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ২৯ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি কর্মসূচির অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।




























