ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপিএল ফিক্সিং: নিষিদ্ধ বিসিবির সাবেক পরিচালক

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

বিপিএল ফিক্সিং: নিষিদ্ধ বিসিবির সাবেক পরিচালক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, জুয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীমের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।

একই তদন্তে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি এবং বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিবি।

গত বিপিএলের ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং, জুয়া এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে করা প্রতিবেদন সম্প্রতি বিসিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবি কোড অব কন্ডাক্টের চারটি ধারা, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে তিনটি ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বোর্ড।

বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিন অভিযুক্তই ১৪ দিনের মধ্যে বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আপিল ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

মোখলেসুর রহমান শামীম আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বোর্ডে প্রভাবশালী পরিচালক ছিলেন। সর্বশেষ বিপিএলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও তিনি টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১ ধারার আওতায় ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা কিংবা এমন কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।

এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে; এমন যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাকিবুল ও জাকিরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

রাকিবুল ইসলাম সানি বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারাসহ তিনটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে যথাসময়ে তা জানাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে যথার্থ কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও তিনটি ধারা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

তে পারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা

বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী, ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় এক বছর থেকে আজীবন ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতরতার ভিত্তিতে এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া যেতে পারে।

এর আগে বিপিএলের ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছিল। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিকেটার অমিত মজুমদারসহ কয়েকজন ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিপিএল ফিক্সিং: নিষিদ্ধ বিসিবির সাবেক পরিচালক

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, জুয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীমের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।

একই তদন্তে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি এবং বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিবি।

গত বিপিএলের ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং, জুয়া এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে করা প্রতিবেদন সম্প্রতি বিসিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবি কোড অব কন্ডাক্টের চারটি ধারা, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে তিনটি ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বোর্ড।

বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিন অভিযুক্তই ১৪ দিনের মধ্যে বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আপিল ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

মোখলেসুর রহমান শামীম আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বোর্ডে প্রভাবশালী পরিচালক ছিলেন। সর্বশেষ বিপিএলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও তিনি টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১ ধারার আওতায় ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা কিংবা এমন কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।

এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে; এমন যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাকিবুল ও জাকিরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

রাকিবুল ইসলাম সানি বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারাসহ তিনটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে যথাসময়ে তা জানাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে যথার্থ কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও তিনটি ধারা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

তে পারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা

বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী, ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় এক বছর থেকে আজীবন ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতরতার ভিত্তিতে এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া যেতে পারে।

এর আগে বিপিএলের ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছিল। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিকেটার অমিত মজুমদারসহ কয়েকজন ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।