আহত ১২
বগুড়ায় রোগীর মৃত্যু নিয়ে স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 41
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে চারজন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ রোগীর ছয় স্বজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বগুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত পুলিশ হেফাজতে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য চারজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক অ্যাজমা-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রোগীর স্বজন ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বহিরাগত তিন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আদনান ইসলাম অর্ক নামের আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর ওপরও হামলা করা হয়।
পরে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ আহত ছয় স্বজনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ বলেন, বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ছয়জন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাত ভেঙে যাওয়ার মতো জখম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকেরা সেবা দিতে না পারলে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। তাই দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ। তিনি বলেন, বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেল মিলিয়ে ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক নেতারা কাজ করছেন।
তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি জানান, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























