ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

শেখ হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এদিন মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে আদালতে আনা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির ও দীপু মনি।

মামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ওমর ফারুক চৌধুরী।

এ তালিকায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং র‌্যাব ও পুলিশের সাবেক কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) না পাওয়ায় সময় চায় প্রসিকিউশন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় দুটি অভিযোগ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় আনা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এদিন মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে আদালতে আনা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির ও দীপু মনি।

মামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ওমর ফারুক চৌধুরী।

এ তালিকায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং র‌্যাব ও পুলিশের সাবেক কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) না পাওয়ায় সময় চায় প্রসিকিউশন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় দুটি অভিযোগ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় আনা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।