নিলামে বিক্রি সম্পত্তিতে ভ্যাট অবৈধ: হাইকোর্ট
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 27
অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের নির্দেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের সম্পত্তির নিলাম ক্রেতার ওপর ভ্যাট আরোপের সুযোগ নেই বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।
বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণা করা হলেও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে নেওয়া কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরে অর্থঋণ জারি মামলার পর অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার আওতায় বন্ধকি সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়।
নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কিনে নেন। তাদের দর অনুমোদনের পর পুরো অর্থও পরিশোধ করেন তারা। তবে অর্থঋণ আদালত জমা ও পাউন্ডেজ ফি গ্রহণের পর নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে নিলাম ক্রেতা ও ডিক্রিদার ব্যাংক উভয় পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তী সময়ে আগের কয়েকটি রায়ের ভিত্তিতে অর্থঋণ আদালত ডিক্রিধারী ব্যাংককে ভ্যাট প্রদান থেকে অব্যাহতি দিলেও নিলাম ক্রেতাদের আবেদন নাকচ করে তাদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধের নির্দেশ বহাল রাখে।
এরপর নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ৮ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন। রুলে নিলাম ক্রেতাদের ওপর স্ট্যাম্প শুল্কসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
পরে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের বেঞ্চে রুল ও সম্পূরক রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।
দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে ১ সেপ্টেম্বর রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
রায়ে আদালত বলেন, নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং এর কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই।
এ ছাড়া বিতর্কিত এসআরওর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেই অংশও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করেন আদালত।
আইনজীবীদের মতে, এ রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। একই সঙ্গে সংসদ কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন করে ভ্যাটমুক্ত রাখলে অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ওই সম্পত্তির ওপর নতুন করে করের দায় চাপানো যায় না—এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবস্থান স্পষ্ট হলো।
দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং নিলামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে এ রায়ের ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।





























