ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষুদ্র ব্যবসায় থাকছে না প্যাকেজ ভ্যাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 28

ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্দিষ্ট হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বা বহুল আলোচিত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে সরকার। খুচরা ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ আইন পাসের আগেই সংশ্লিষ্ট বিধান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারত। পাশাপাশি অনেক মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আসার চেষ্টা করতে পারে।

বর্তমানে বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার থাকা খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয়। এর নিচে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের আওতার বাইরে। তবে নতুন বাজেটে টার্নওভারের সীমা তুলে দিয়ে ১ জুলাই থেকে সব খুচরা ব্যবসাকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এ প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এতে পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিও ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের বাস্তব সক্ষমতা নেই।

এদিকে সরকার তামাক খাতে প্রস্তাবিত কয়েকটি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও শিথিল করছে। এর ফলে আমদানি পর্যায়ে নিকোটিন পাউচের ওপর বর্তমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল থাকতে পারে। পাশাপাশি সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধিও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভূমি বিক্রির ক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ক্ষুদ্র ব্যবসায় থাকছে না প্যাকেজ ভ্যাট

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্দিষ্ট হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বা বহুল আলোচিত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে সরকার। খুচরা ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ আইন পাসের আগেই সংশ্লিষ্ট বিধান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারত। পাশাপাশি অনেক মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আসার চেষ্টা করতে পারে।

বর্তমানে বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার থাকা খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয়। এর নিচে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের আওতার বাইরে। তবে নতুন বাজেটে টার্নওভারের সীমা তুলে দিয়ে ১ জুলাই থেকে সব খুচরা ব্যবসাকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এ প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এতে পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিও ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের বাস্তব সক্ষমতা নেই।

এদিকে সরকার তামাক খাতে প্রস্তাবিত কয়েকটি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও শিথিল করছে। এর ফলে আমদানি পর্যায়ে নিকোটিন পাউচের ওপর বর্তমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল থাকতে পারে। পাশাপাশি সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধিও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভূমি বিক্রির ক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।