আগের সরকারের বৈদেশিক ঋণ এখন দেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 8
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগের সরকারের অপরিকল্পিত ও লোকদেখানো প্রকল্পে নেওয়া বৈদেশিক ঋণ এখন দেশের জন্য বড় বোঝা। তবে এই সংকটকে অজুহাত না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগের সরকারের অপরিকল্পিত ও লোকদেখানো ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’-এর জন্য নেওয়া বৈদেশিক ঋণ এখন জাতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেশি-বিদেশি ঋণ নিয়ে এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যেগুলো থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। ফলে এখন বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর বোঝা বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, পুঁজিবাজারে অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটজনক পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে টাকার মানও প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। এসব সংকট সরকার অস্বীকার করছে না, তবে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না।
তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তবমুখী নীতির মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে চায়। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, উদ্যোক্তারা হয়রানিমুক্তভাবে ব্যবসা করতে পারবেন এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।






























