ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে চীন, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে আপত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 12

তিস্তা ব্যারেজ। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং বলেছে, ঢাকা-বেইজিং সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ সহযোগিতা বাইরের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। ভারতের উদ্বেগের প্রসঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।

বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা পারস্পরিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের জন্য। এ ধরনের সহযোগিতায় কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়, অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন। সমীক্ষায় প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রমাণিত হলে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে চীন।

এরই মধ্যে তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা ও বেইজিং সমঝোতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।

তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটিকে ঘিরে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার অগ্রগতি ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে চীন, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে আপত্তি

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং বলেছে, ঢাকা-বেইজিং সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ সহযোগিতা বাইরের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। ভারতের উদ্বেগের প্রসঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।

বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা পারস্পরিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের জন্য। এ ধরনের সহযোগিতায় কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়, অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন। সমীক্ষায় প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রমাণিত হলে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে চীন।

এরই মধ্যে তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা ও বেইজিং সমঝোতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।

তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটিকে ঘিরে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার অগ্রগতি ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।