ধান্ধাবাজ নাহিদ ইসলামকে ইলিয়াসের হুঁশিয়ারি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 880
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কথিত প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। ৮ আগস্ট ইলিয়াস তার ভেরিফাইড ফেসবুকে নাহিদ ও তার বাবার ধান্ধাবাজির ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণদিবসে নাহিদের শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইলিয়াস। আরো কয়েকটি বিষয়টি নাহিদকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কথিত এই সাংবাদিক।
নাহিদ ইসলামকে নিয়ে ইলিয়াস হোসাইনের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি বাংলা অ্যাফেয়ার্সের পাঠকদের জন্য হুবুবু তুলে ধরা হলো;
নাহিদ ইসলাম, এ পর্যন্ত এনসিপির মধ্যে কম বিতর্কিত নেতাদের মধ্যে একজন। তবে চুপচাপ উনি যে পরিমাণ ধান্দাবাজি করেছেন, সেটার হিসাব পুরোটা হয়তো টানা হবে না কোনো দিন। কারণ, জুলাইয়ের কারণে তাদের প্রতি একটা দুর্বলতা আছে। অনেকেই বলেন, ওদের বিরুদ্ধে কথা না বলতে। কিন্তু কতক্ষণ সহ্য করা যায়, বলেন?
আজকে সে পতিতালয় ব্যবসায়ী রবীন্দ্রনাথের বিশাল প্রশংসা করে একটা পোস্ট করেছে। রবীন্দ্রনাথ নাকি ওর আব্বা হয়। অবশ্য ওর আসল আব্বার চেয়ে রবীন্দ্রনাথ ভালো।
৫ তারিখের পর খিলগাঁও থানার একজন ওসি ছিলেন, নাম দাউদ। খুবই বিএনপিপন্থী/জাতীয়তাবাদী অফিসার। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তখন অবশ্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে আমার সম্পর্কও ভালো। আব্বাস ভাই একদিন কথায় কথায় বলতেছে, ‘ইলিয়াস, কই যাব বলো, নাহিদের বাবা ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে জুলাই হত্যা মামলা থেকে বিভিন্ন আসামির নাম কাটতে ওসিকে চাপ দিচ্ছে!’
নাহিদের বাপের আরও অপকর্ম আছে। আব্বাস ভাই তখন নাহিদের বাপকে বলছিলেন, ‘ভাই সাহেব, আপনার টাকার দরকার হলে আমাকে বইলেন। এসব পোলাপানকে সঙ্গে নিয়ে আপনি ৫-৬ হাজার টাকা নিজের সম্মান নষ্ট করবেন।’
এর বাইরেও বাড্ডার প্রতিটি ফার্নিচারের দোকানসহ ব্যবসায়ীদের কাছে গেলে অনেক খবর জানতে পারবেন। এই হচ্ছে নাহিদের বাবা।
আর নাহিদের কথা বলব? ছোট একটা ঘটনা বলি। নির্বাচনের দুই দিন আগের কথা। তাকে ঢাকা শহরের যেকোনো একজন পরিচিত ধনাঢ্য ব্যক্তি নাহিদকে কয়েকবার ফোন দিয়ে পাননি। এরপর জনৈক সেই ব্যক্তি আমাকে ফোন দিয়ে বলল, ‘ইলিয়াস, নাহিদ ফোন ধরে না, ওরে কি কোনোভাবে পাওয়া যাবে?’
আমি নাহিদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির খালেদ সাইফুল্লাহ (রামপুরার জামায়াত নেতা) ভাইকে কল দিয়ে বললাম, ‘ভাই, নাহিদকে বলেন, —— নম্বর থেকে একটা কল আসছে, রিসিভ করতে।’
এরপর তার সঙ্গে কথা হয়। জনৈক ওই ব্যক্তি ২০ লাখ টাকা দেবে বলার পর নির্বাচনী কাজ ফেলে রেখে সোজা তার বাসায় চলে যায়। নিজে গিয়ে টাকা নিয়ে আসে। অথচ ওই সময় নাহিদের নির্বাচনী টিমে কাজ করা জামায়াতের লোকজনের পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। সেই জনৈক ব্যক্তি নির্বাচনের পর তার একটা সাক্ষাৎও পায়নি।
এই হলো এদের চরিত্র।
খেতে খেতে সব কটা চকচকা হয়ে গেছে। মুখ ছুটলে আরও অনেক কথা বলতে বাধ্য হবো। কিছু বলি না বলে তোমার রবীন্দ্রনাথ আব্বাকে নিয়ে পোস্ট দিবা আর তোমাদের আদর করব; এটা মনে করার কোনো কারণ নাই।
জুলাই মানে শুধু তোমরা ছয়জন না, আরও অনেক মানুষ আছে।
আমরা ১৫ বছর হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি নাই, যুদ্ধ করেছি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে। হাসিনার মতো ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে তোমরা কী করতে; ওইটা আমরা দেড় বছরেই বুঝছি।
চুরির বেলায় সব এক। অতএব, চুরি করো; কিছু বলব না। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের আদি গুরু রবীন্দ্রনাথের পক্ষে পোস্ট দেওয়াচাইতে আসলে কপালে শনি আছে।
ইন্ডিয়ার প্রশ্নে কাউকে কোনো ছাড় হবে না।































