জুলাই জাদুঘরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নাহিদ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 241
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই জাদুঘরকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইতিহাস হিসেবে নয়, বরং দেশের জাতীয় ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই জাদুঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে প্রায় পাঁচ মাস পর এটি উদ্বোধন করেছে। এর মধ্যে জাদুঘরের প্রদর্শনীতে কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে।
জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও ফেলানীসহ কিছু স্মৃতি আগে এখানে ছিল, পরে সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন সরানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক দেখানোর জন্য এসব বিষয় বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে জাদুঘরে বিএনপির ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন স্মৃতি ও উপাদান বাড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের মানুষের যে ভূমিকা ছিল, তা জাদুঘরে যথেষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। একই পরিচিত মুখগুলো বারবার তুলে ধরা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাদুঘরকে কোনো দলের ইতিহাস হিসেবে নয়, জাতীয় ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।’ অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তন বা বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও যেন একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জাদুঘরের নিরাপত্তা ও জনবল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। তার দাবি, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জনবল সংকটের কারণে জাদুঘরটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে রাখলে এর সুষ্ঠু পরিচালনা ব্যাহত হতে পারে। গণঅভ্যুত্থানে যারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের মাধ্যমে জাদুঘর পরিচালনার ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে জাদুঘরের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। সরকারের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জাদুঘরের প্রদর্শনীতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে আবু সাইদের স্মৃতি না থাকার বিষয়টিও রয়েছে। এ বিষয়ে তারা এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
































