তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ছাত্রলীগে বিবাহিত ও বিতর্কিতদের প্রাধান্য
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 181
২০২৪ এর ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও থেমে নেই সংগঠনের কার্যক্রম। ঝটিকা মিছিল থেকে শুরু করে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পদ বাণিজ্যেসহ বিবাহিত ও জুলাই আন্দোলনের সহযোগীদের পদায়নের অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই কমিটি দেয়ার পরদিনই কয়েকজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং উত্তরা পূর্ব ও তুরাগ থানার কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, সবচে বেশি বিতর্কিদের দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ সাগর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের কমিটি করেছে। এ নিয়ে সাধারণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তুরাগ এবং উত্তরা পূর্ব থানা কমিটির মতো তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের কমিটিও স্থগিত এবং বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়েছে মোঃ নয়ন মিয়াকে। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। নয়নের স্ত্রীর নাম ডলি, শ্বশুরের নাম ফরিদ মিয়া এবং বউয়ের বড় বোনের নাম লায়লা।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে নাইমুল হক দূর্জয়কে। তিনিও বিবাহিত, স্ত্রীর নাম সুমাইয়া সালাম মুনিয়া। ৫ আগস্টের পর মাত্র দুইবার পোস্টার লাগিয়েই গুরুত্বপূর্ণ থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে গেছেন। এ নিয়ে সাধারণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তেজগাঁও অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি মিছিল করেছে এমন অনেককে কমিটিতেই রাখা হয়নি। সেখানে দুইদিন পোস্টার লাগিয়ে কিভাবে দূর্জয় নেতা হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, নয়ন মিয়া ও দূর্জয় বিবাহিত হয়েও রিয়াজ এবং সাগরকে আর্থিক সুবিধা দিয়েই কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, কমিটি করার ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর উত্তর ইতিমধ্যেই কয়েকটি ভূল করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যাহতি ও কমিটি স্থগিত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলো সমাধান নয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিষয়গুলো এখন জানতে পারলাম। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমিটিতে বিবাহিত ও বিতর্কিতরা কিভাবে ঠাঁই পেলেন সে বিষয়ে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ কোনো জবাব দেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ সাগর বলেন, সব কিছু তার হাতে নেই।
এদিকে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ছাত্রলীগের কমিটিতে ১ নং সহ সভাপতি করা হয়েছে মোঃ সানিকে। তিনিও বিবাহিত, স্ত্রীর রাবেয়া রহমান। কয়েকদিন আগে তিনি পিতা হয়েছেন।
এছাড়া কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল হোসেন বিয়ে করেছিলেন, পরবর্তীতে তাদের মধ্যে তালাক হয়েছে। স্ত্রীর নাম মীম।
এছাড়া, এই কমিটির ১ নং সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রিফাতও বিবাহিত। তার স্ত্রী গর্ভবতী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেই সে ছবি পোস্ট করেছেন। এমনকি আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব মাহমুদেরও তালাক হয়ে গেছে।
এদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সহ সভাপতি বলেন; ছাত্রলীগের দুঃসময় চলছে এখন। এ অবস্থায়ও কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ আমাদের আহত করে। এছাড়া বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি করার দায়ে মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত তদন্ত করে।
























