ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের মৃত্যুর দিন যা ঘটেছিল
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 888
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর দিন রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা দিয়েছেন মঞ্জুর সরদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাংবাদিকদের কাছে সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
মঞ্জুর সরদার জানান, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আদালতে যাওয়ার জন্য গাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে ফোন করে ডেকে নেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার দিকে তাঁরা ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে ফিরে যান। তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ-ছয়জন ছিলেন। তাঁরা গেস্ট রুমে খাবার খান। আর গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা কক্ষে খাবার খান বলে দাবি করেন মঞ্জুর।
তাঁর ভাষ্য, কিছুক্ষণ পর গাজী নজরুল দ্রুত এসে তাঁকে ভেতরে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা খোলার চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে কক্ষের পেছনের দিকে গিয়ে একটি জানালা খোলা দেখতে পান তাঁরা।
মঞ্জুর সরদারের দাবি, জানালার পর্দা সরিয়ে ভেতরে তাকালে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর গলায় এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড়জাতীয় কিছু প্যাঁচানো ছিল। কক্ষের ভেতরে একটি চেয়ার ও একটি প্লাস্টিকের টুলও পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানান তিনি।
তবে মরিয়ম কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করেননি মঞ্জুর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়ম জীবিত না মৃত তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁরা দরজা বা জানালা না ভেঙে পুলিশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং তাদের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়।
এদিকে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওবায়দুরই তাঁর মেয়েকে ঘর থেকে বের করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।
মাসুম বিল্লাহ জানান, বিয়ের পর মরিয়ম ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন। তবে বিয়ের পর মেয়ের সঙ্গে কোনো সমস্যা বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মরিয়ম তাঁকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি।
মরিয়মের কাছ থেকে পাওয়া কয়েকটি চিঠির বিষয়েও কথা বলেন তাঁর বাবা। তিনি জানান, পুলিশ তাঁকে চিঠিগুলো দেখিয়েছে। তবে সেগুলো তাঁর মেয়ের হাতের লেখা কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। ব্যবসার কাজে বাইরে থাকায় মেয়ের হাতের লেখা তিনি ভালোভাবে চিনতেন না বলেও জানান তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কারও দায় বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।



























