ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বৈঠক পিছিয়েছে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 433

শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি পিছিয়ে গেছে। আপতত শুক্রবারের বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে। বৈঠকটি কেন শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এমন খবরই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ।

দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে নর্থইস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বৈঠকের এক দিন আগে বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক বাতিলের ঘটনায় দলটির কয়েকজন নেতা বিস্মিত হলেও এর পেছনে কোনো বাহ্যিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তাঁরা অনাগ্রহী।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সরাসরি এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আর হয়নি। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুইজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে তারা আগে বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল। বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁদের বেশির ভাগই বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন।

বৈঠকে অংশ নিতে কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো হয়।

প্রথমে বৈঠকটি কলকাতায় আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার কারণে সেটি দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির করণীয় নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা আপাতত হচ্ছে না।

বৈঠক বাতিলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এদিকে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যর্পণ নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ভারত এখনো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়াকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকা।

এমন পরিস্থিতিতে ১৮ সেপ্টেম্বরের বাতিল হওয়া বৈঠকে শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নয়, কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর দেশে ফেরা সম্ভব হতে পারে; সেটিও আলোচনায় আসার কথা ছিল।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২৯ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ঘিরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ওই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল।

পরে আওয়ামী লীগ দাবি করে, বাতিল হওয়া ওই অনুষ্ঠানটি দলীয় কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং দলটি সেটি আয়োজন, পৃষ্ঠপোষকতা বা অনুমোদন করেনি।

তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এটি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান নয়, বরং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ পরামর্শ বৈঠক হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে; বৈঠকটি পরে আবার আয়োজন করা হবে কি না, শেখ হাসিনা জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করবেন কি না এবং তাঁর দেশে ফেরা ও দলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করবে কি না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বৈঠক পিছিয়েছে

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি পিছিয়ে গেছে। আপতত শুক্রবারের বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে। বৈঠকটি কেন শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এমন খবরই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ।

দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে নর্থইস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বৈঠকের এক দিন আগে বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক বাতিলের ঘটনায় দলটির কয়েকজন নেতা বিস্মিত হলেও এর পেছনে কোনো বাহ্যিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তাঁরা অনাগ্রহী।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সরাসরি এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আর হয়নি। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুইজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে তারা আগে বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল। বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁদের বেশির ভাগই বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন।

বৈঠকে অংশ নিতে কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো হয়।

প্রথমে বৈঠকটি কলকাতায় আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার কারণে সেটি দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির করণীয় নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা আপাতত হচ্ছে না।

বৈঠক বাতিলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এদিকে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যর্পণ নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ভারত এখনো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়াকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকা।

এমন পরিস্থিতিতে ১৮ সেপ্টেম্বরের বাতিল হওয়া বৈঠকে শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নয়, কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর দেশে ফেরা সম্ভব হতে পারে; সেটিও আলোচনায় আসার কথা ছিল।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২৯ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ঘিরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ওই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল।

পরে আওয়ামী লীগ দাবি করে, বাতিল হওয়া ওই অনুষ্ঠানটি দলীয় কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং দলটি সেটি আয়োজন, পৃষ্ঠপোষকতা বা অনুমোদন করেনি।

তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এটি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান নয়, বরং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ পরামর্শ বৈঠক হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে; বৈঠকটি পরে আবার আয়োজন করা হবে কি না, শেখ হাসিনা জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করবেন কি না এবং তাঁর দেশে ফেরা ও দলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করবে কি না।