গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে তৈরি পোশাক কারখানা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 51
দীর্ঘদিনের নানা সংকটের সঙ্গে এবার তীব্র গ্যাস সংকট নতুন করে চাপ তৈরি করেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যাংকিং অসহযোগিতা, উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই শিল্পটি কঠিন সময় পার করছে। এর মধ্যে জুলাই থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও শিপমেন্ট করতে না পারায় বাড়তি খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে সিএনজি ব্যবহার করে কারখানা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিতাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘সার্কুলার দিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিষেধ করে দিয়েছে গ্যাস না দেওয়ার। আমি মনে করি, তিতাস এটা কোনোভাবেই সঠিক কাজ করেনি।’
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, গত তিন বছর ধরেই বিভিন্ন কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে। ব্যাংকিং অসহযোগিতা, ঋণের উচ্চ সুদহার এবং জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বায়ারদের কাছে যাচ্ছে নেতিবাচক বার্তা
গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বার্তা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নতুন অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রেও।
তার ভাষ্য, ‘অর্ডার যেই পরিমাণে আসার কথা, সেটা আসছে না।’
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানি; দুই উৎস থেকেই গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প খাতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কা
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শিল্প খাতে গ্যাসের বরাদ্দ না বাড়ালে এ সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থানে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো বিপুল শ্রমিকনির্ভর শিল্পে কারখানা বন্ধ হলে নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, বিদ্যমান চাকরিও ঝুঁকিতে পড়বে।
নলেজ হাব ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গ্যাসের সিস্টেম লস কমানো এবং অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বৈধ শিল্প গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘১০ শতাংশ সিস্টেম লসও যদি কমানো যায়, কেননা প্রচুর পরিমাণে গ্যাসের অবৈধ কানেকশন রয়েছে। এগুলোও যদি এ সময় কন্ট্রোল করা যায়, তাহলেও বৈধ গ্রাহকদের বাড়তি কিছুটা গ্যাস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’
একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তার কারণে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চেয়ে বিদ্যমান কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই বেশি জরুরি। এজন্য শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাংকিং সহায়তা বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।


































