ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি

জাবেদ-বিপ্লবের কাজের লোকদের ছাত্রলীগ নেতা বানাতে তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 262

জাবেদ-বিপ্লবের কাজের লোকদের ছাত্রলীগ নেতা বানাতে তৎপরতা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব গঠনকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠের রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের বদলে প্রভাবশালী নেতাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে; এমন অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। এমনকি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার বাসার কাজের লোককে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে নেতা বানানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় থাকা কয়েকজনের অতীতে সংগঠনের কোনো ইউনিটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের নাম সামনে আনা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সুপারিশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন

জেলা ছাত্রলীগের পদপ্রার্থী হিসেবে রবিউল হায়দারের নাম আলোচনায় আসার পেছনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সুপারিশ রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, রবিউল হায়দারের ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে সদস্য পদ না থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নেতৃত্বের আলোচনায় এসেছেন।

রবিউল হায়দারকে ঘিরে অতীতে শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছিল। এ বিষয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদনও প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত শিবিরের সমর্থক ফরমে তার নাম থাকার কথা। তবে রবিউল তখন অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা দাবি করে তা অস্বীকার করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রীর এপিএস রিদুয়ানুল করিম সায়েমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। সাবেক মন্ত্রীর বাসায় কাজ করতেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে; সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ভূমিকা নয়, নাকি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যোগাযোগই তার প্রার্থিতার মূল শক্তি?

অন্যদিকে, ইরফান উদ্দীনের নামও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় এসেছে। তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, ছাত্রলীগের কোনো ইউনিটে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন না করেও প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে তার নাম সামনে এসেছে। এর আগেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরফান উদ্দীন ও রবিউল হায়দারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল; ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারা পূর্ববর্তী কোনো ছাত্রলীগ কমিটিতে ছিলেন না।

ইরফান উদ্দীনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলাও রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সহকারী আরিফের সহযোগী হিসেবে বিপ্লব বড়ুয়ার বাড়িতেও কাজ করেছেন ইরফান।

ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নেতৃত্বের চেষ্টা?

তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, যারা বছরের পর বছর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন; নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় তাদের মূল্যায়ন কতটা হচ্ছে?

তাদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রত্যাশা ছিল মাঠের কর্মীদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বাছাই করা হবে।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে আলাদাভাবে তৎপর হয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কয়েকজনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও ৫ আগস্ট-পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিকল্প হিসেবে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমানকে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যুবলীগের রাজনীতিক?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন; যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় একজন ব্যক্তি যদি ছাত্রলীগের জেলা নেতৃত্বে আসেন, তাহলে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক স্বাতন্ত্র্য কোথায় থাকবে?

যুবলীগের কর্মসূচীতে মিজানুর রহমান
যুবলীগের কর্মসূচীতে মিজানুর রহমান

নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, এমন সিদ্ধান্ত হলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাঠের কর্মীদের মধ্যে এই বার্তাও যেতে পারে যে সাংগঠনিক ত্যাগ বা কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগই নেতৃত্ব পাওয়ার বড় যোগ্যতা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রয়োজন মাঠের নেতৃত্ব

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়াসহ বিস্তৃত এ অঞ্চলে ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতারা ছিলেন। প্রকাশিত পুরোনো প্রতিবেদনেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা একাধিক নেতার নাম নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় ছিল।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কাগুজে পদ বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ নয়; শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা এবং মাঠের কর্মীদের আস্থা রয়েছে এমন নেতৃত্বই প্রয়োজন।

তাদের প্রশ্ন এখন একটাই; চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কি এবারও ‘মাই ম্যান’ বাছাইয়ের রাজনীতিতে আটকে থাকবে, নাকি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে?

এই সিদ্ধান্তের ওপর শুধু একটি কমিটির ভবিষ্যৎ নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার বড় একটি অংশ নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি

জাবেদ-বিপ্লবের কাজের লোকদের ছাত্রলীগ নেতা বানাতে তৎপরতা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব গঠনকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠের রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের বদলে প্রভাবশালী নেতাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে; এমন অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। এমনকি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার বাসার কাজের লোককে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে নেতা বানানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় থাকা কয়েকজনের অতীতে সংগঠনের কোনো ইউনিটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের নাম সামনে আনা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সুপারিশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন

জেলা ছাত্রলীগের পদপ্রার্থী হিসেবে রবিউল হায়দারের নাম আলোচনায় আসার পেছনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সুপারিশ রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, রবিউল হায়দারের ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে সদস্য পদ না থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নেতৃত্বের আলোচনায় এসেছেন।

রবিউল হায়দারকে ঘিরে অতীতে শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছিল। এ বিষয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদনও প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত শিবিরের সমর্থক ফরমে তার নাম থাকার কথা। তবে রবিউল তখন অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা দাবি করে তা অস্বীকার করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রীর এপিএস রিদুয়ানুল করিম সায়েমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। সাবেক মন্ত্রীর বাসায় কাজ করতেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে; সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ভূমিকা নয়, নাকি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যোগাযোগই তার প্রার্থিতার মূল শক্তি?

অন্যদিকে, ইরফান উদ্দীনের নামও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় এসেছে। তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, ছাত্রলীগের কোনো ইউনিটে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন না করেও প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে তার নাম সামনে এসেছে। এর আগেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরফান উদ্দীন ও রবিউল হায়দারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল; ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারা পূর্ববর্তী কোনো ছাত্রলীগ কমিটিতে ছিলেন না।

ইরফান উদ্দীনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলাও রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সহকারী আরিফের সহযোগী হিসেবে বিপ্লব বড়ুয়ার বাড়িতেও কাজ করেছেন ইরফান।

ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নেতৃত্বের চেষ্টা?

তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, যারা বছরের পর বছর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন; নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় তাদের মূল্যায়ন কতটা হচ্ছে?

তাদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রত্যাশা ছিল মাঠের কর্মীদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বাছাই করা হবে।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে আলাদাভাবে তৎপর হয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কয়েকজনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও ৫ আগস্ট-পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিকল্প হিসেবে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমানকে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যুবলীগের রাজনীতিক?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন; যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় একজন ব্যক্তি যদি ছাত্রলীগের জেলা নেতৃত্বে আসেন, তাহলে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক স্বাতন্ত্র্য কোথায় থাকবে?

যুবলীগের কর্মসূচীতে মিজানুর রহমান
যুবলীগের কর্মসূচীতে মিজানুর রহমান

নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, এমন সিদ্ধান্ত হলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাঠের কর্মীদের মধ্যে এই বার্তাও যেতে পারে যে সাংগঠনিক ত্যাগ বা কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগই নেতৃত্ব পাওয়ার বড় যোগ্যতা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রয়োজন মাঠের নেতৃত্ব

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়াসহ বিস্তৃত এ অঞ্চলে ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতারা ছিলেন। প্রকাশিত পুরোনো প্রতিবেদনেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা একাধিক নেতার নাম নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় ছিল।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কাগুজে পদ বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ নয়; শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা এবং মাঠের কর্মীদের আস্থা রয়েছে এমন নেতৃত্বই প্রয়োজন।

তাদের প্রশ্ন এখন একটাই; চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কি এবারও ‘মাই ম্যান’ বাছাইয়ের রাজনীতিতে আটকে থাকবে, নাকি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে?

এই সিদ্ধান্তের ওপর শুধু একটি কমিটির ভবিষ্যৎ নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার বড় একটি অংশ নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।