নিখোঁজের ২৫ দিন পর জঙ্গলে মিলল যুবকের কঙ্কাল
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক তরুণের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন হাড়ের পাশাপাশি তার পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। তিনি পেশায় শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন; ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), মো. ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল (২৭)।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, রাশেদুল তার বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজ না থাকায় প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাশের এলাকার জসিম, রফিক ও মোজাম্মেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজও করতেন তিনি।
গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে ডেকে নিয়ে যান জসিম। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে একটি কল আসে। ফোনে এক নারী ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। পরে কয়েক দফা ফোন ও এসএমএস আসার পর ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের বাবা।
পরে ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন শাহজাহান। এর মধ্যে জসিম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ এলাকা থেকে রফিক ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন হাড় এবং একটি প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। পরনের পোশাক দেখে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ছেলে রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা শাহজাহান।
শাহজাহানের দাবি, কিছুদিন আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে একটি শসাখেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই রাশেদুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে হাড় ও অন্যান্য আলামত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





























