সাকিবসহ ১৫ জনের দুদক মামলার প্রতিবেদন জমা আবার পিছিয়েছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 72
শেয়ারবাজারে কারসাজি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আবারও পিছিয়েছে। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহাজাহান কবির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাটিতে সাকিব আল হাসান ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজামকে।
দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, শেয়ারবাজারে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ১৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে আদালত সাকিব আল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সন্দেহজনক ও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেনের মাধ্যমে চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে, যা প্রকৃত বিনিয়োগের পরিবর্তে অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আবুল খায়েরের নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আবুল খায়েরের মাধ্যমে কারসাজির অভিযোগ থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে তিনি বাজার কারসাজির সঙ্গে যুক্ত হন এবং এর মাধ্যমে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা অপরাধলব্ধ আয় হিসেবে উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।































