পুতুলকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পুনর্গঠন
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 622
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পুতুলকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে শুক্রবারের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেই তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে; এমন নিশ্চয়তা নেই।
সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকটি প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লিতে সরাসরি করার পরিকল্পনা থাকলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা ভার্চ্যুয়ালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সব কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমানে ভারতে না থাকা এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে উদ্বেগকে বৈঠকের ধরন পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিল বা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দলের সভাপতি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দিতে পারেন। দলীয় নেতাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, শুক্রবারের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হলে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্য ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুতুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে পারেন।
পুতুল ছাড়াও চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের একজন করে নেতাকে সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সুজিত রায় নন্দীও দিল্লিতে রয়েছেন।
দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় বিবেচনায় দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করতে নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর পেছনে কৌশলগত বিষয়ও থাকতে পারে।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান। সে সময় পুতুলও নয়াদিল্লিতে ছিলেন। তিনি তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি ওই পদে নেই।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং দেশে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে পুতুলকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার উদ্যোগ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি, পুতুলকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনার বিষয়টি তাঁর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা বা সভাপতিমণ্ডলীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে পুতুলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

































