ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেজগাঁওয়ের জঙ্গি সন্দেহে ১২ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 117

তেজগাঁওয়ে জঙ্গি সন্দেহে ১২ জন রিমান্ডে

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাম্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমোদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ ১২ জনকে আদালতে হাজির করেন। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার জানান, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রিমান্ড চাওয়া হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় জড়ো হয়েছেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপে তারা উগ্রবাদী বক্তব্য ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগে উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন বলে জানানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের যোগাযোগের তথ্য যাচাই, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তেজগাঁওয়ের জঙ্গি সন্দেহে ১২ জন রিমান্ডে

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাম্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমোদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ ১২ জনকে আদালতে হাজির করেন। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার জানান, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রিমান্ড চাওয়া হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় জড়ো হয়েছেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপে তারা উগ্রবাদী বক্তব্য ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগে উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন বলে জানানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের যোগাযোগের তথ্য যাচাই, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।