বিএনপির অবস্থান বদল
ভারতের ট্রানজিটে আপত্তি, চীনের করিডোরে সম্মতি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 160
ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট ও করিডোর নিয়ে একসময় জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। দলটির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এবার মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোরে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অবস্থান পরিবর্তন, চীনের কৌশলগত স্বার্থ, মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকট; সব মিলিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগনীতিতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন। ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট ও রেল করিডোর নিয়ে অতীতে বিএনপির কঠোর অবস্থান থাকলেও এবার চীন ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে দলটির নেতৃত্বাধীন সরকার।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সফর শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে সরকারের এ অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নে সরকারের আগ্রহ রয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারের দৃষ্টিতে এটি কেবল একটি সড়ক যোগাযোগ প্রকল্প নয়; বরং আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পণ্য পরিবহন এবং বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং রাখাইনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত।
ভারতের সঙ্গে করিডোর নিয়ে বিএনপির আগের অবস্থান
চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিএনপির অতীত অবস্থানও নতুন করে সামনে আসছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে রেল ও ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নে দলটির নেতারা একসময় কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
২০২৪ সালের ৩০ জুন ভারতের সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর বিরোধিতা করে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের রেল নেটওয়ার্ককে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিএনপি নেতারা ওই ব্যবস্থাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন।
এমনকি ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। দলটির আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের মার্চে চীনের ইউনান প্রদেশে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরের রুট নিয়েও কৌশলগত উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রস্তাবিত রুটটি এমনভাবে সাজানো যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ঘুরে আবার ভারতের জন্য করিডোরের মতো হয়ে যাচ্ছে। তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট কিংবা মানবিক করিডোরের বিরোধিতা এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরে আগ্রহ; দুটি সম্পূর্ণ অভিন্ন বিষয় নয়। বর্তমান প্রস্তাবে বাংলাদেশের জন্য চীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বন্দর ব্যবহার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিএনপির আগের অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের তুলনা করা গেলেও একে সরাসরি নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন বলা হলে পুরো প্রেক্ষাপটটি উঠে আসবে না।
কীভাবে যুক্ত হবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন
বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার ধারণাটি নতুন নয়। এর আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে আলোচনায় আসা এ উদ্যোগ ২০১৩ সালের দিকে আন্তসরকারি স্বীকৃতি পায়। তবে ভারতের ভূরাজনৈতিক আপত্তি এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহের কারণে প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
এরপর চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে নতুনভাবে অর্থনৈতিক করিডোরের ধারণা সামনে আনে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে একটি শাখা ইয়াঙ্গুন এবং অন্যটি রাখাইনের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দরের দিকে যাবে। পরে সড়ক ও রেলপথে রাখাইন থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ করিডোরের প্রস্তাব পুনরায় আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন তখন জানান, এ উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধি এবং বহুমাত্রিক পরিবহন যোগাযোগ শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও চীনের আগ্রহের কথা জানানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চীনের ইউনান প্রদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব দেন। তাঁর ধারণা, এ পথে পণ্য পরিবহনে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি তিন দেশের বাণিজ্য বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
চীনের কৌশলগত স্বার্থ কতটা?
এই করিডোরের অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি চীনের কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশ স্থলবেষ্টিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমুদ্রবন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের কিয়াউকপিউ বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে চীনের জন্য বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে করিডোর বাস্তবায়নে চীন আগ্রহী। তবে ভারতসহ অন্য দেশগুলোর জন্যও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ খোলা থাকবে। তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি।
সবচেয়ে বড় বাধা মিয়ানমারের যুদ্ধ পরিস্থিতি
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও প্রস্তাবিত করিডোর বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের বড় অংশে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত অব্যাহত থাকায় সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাখাইন অঞ্চলই প্রস্তাবিত করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে স্থিতিশীলতা না ফিরলে কাগজে-কলমে পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হবে।
এ কারণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও করিডোর বাস্তবায়নের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকে যুক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। রাখাইনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক যোগাযোগও কঠিন।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ও ঝুঁকি
প্রস্তাবিত করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। চীনের সঙ্গে সরাসরি স্থল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলে পণ্য পরিবহনে বিকল্প পথ পাওয়া যাবে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়তে পারে। পাশাপাশি সড়ক, রেল, লজিস্টিকস, গুদাম, শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এ উদ্যোগে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে। দ্বিতীয়ত, চীনের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উপস্থিতি বাড়লে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রভাব বাংলাদেশকেও মোকাবিলা করতে হতে পারে। তৃতীয়ত, করিডোর নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ, শুল্ক এবং পণ্য পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই যোগাযোগব্যবস্থায় বাংলাদেশের বন্দর ও ভূখণ্ড ব্যবহারের বিনিময়ে দেশটি কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, সেটি চুক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করা। শুধু আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়লেই বাংলাদেশের লাভ নিশ্চিত হবে না। বন্দর ব্যবহারের মাশুল, ট্রানজিট ফি, বিনিয়োগের শর্ত, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।
ভারতকে পাশ কাটিয়ে নতুন যোগাযোগব্যবস্থা?
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। বিসিআইএম করিডোরে ভারত যুক্ত থাকার কথা থাকলেও নতুন প্রস্তাবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে কেন্দ্র করে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে। ফলে ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে চীন স্পষ্ট করেছে, ভারত চাইলে পরবর্তী সময়ে এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পারবে। অর্থাৎ প্রকল্পটি ভারতবিরোধী কোনো উদ্যোগ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করছে না বেইজিং। বরং প্রথম পর্যায়ে তিন দেশের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে পরে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার কথা বলছে।
সব মিলিয়ে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোর বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে মিয়ানমারের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তির শর্তগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বিএনপির অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান সরকারের আগ্রহের মধ্যে তুলনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির মূল্যায়ন হওয়া উচিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাভ, সার্বভৌমত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। করিডোরটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হতে পারে, আবার যথাযথ শর্ত নিশ্চিত না হলে নতুন ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।



































