প্রধানমন্ত্রীর বাণী
জনগণের অধিকার হরণের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 51
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যাতে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে কিংবা দেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের তাঁবেদারিতে পরিণত করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনায় এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। ওই দিন দেশপ্রেমিক সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল দেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি ঐতিহাসিক দিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল। একই সঙ্গে দেশের সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও গৌরব রক্ষায় সেদিন সিপাহি-জনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের চর্চায় পুরোপুরি নিমগ্ন থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতীতকে ভুলে যাওয়াও উচিত নয়। ভবিষ্যতের পথ নির্মাণে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।
বাণীতে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়ে আবারও দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এবং ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য মানুষ রাজপথে নেমেছিল। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।






























