আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট শতাধিক পোশাক কারখানা চিহ্নিত
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 44
পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক আন্দোলন ও সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন। তদন্তে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন শতাধিক কারখানার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
টানা কয়েক দিন ধরে পোশাকশিল্পাঞ্চলে চলা সহিংসতা ও নৈরাজ্যের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থকদের দায়ী করার অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কারখানার মালিক ও শ্রমিকেরা।
কয়েকজন পোশাকশ্রমিক জানান, তাঁদের কারখানার কোনো শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেননি। তাঁদের দাবি, আন্দোলনকারীরা বাইরের লোক। কারখানায় হামলা বা ক্ষয়ক্ষতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরাই। তাই বাইরের কোনো পক্ষের উসকানি বা হামলার আশঙ্কায় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল।
স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, নতুন করে চাপ সৃষ্টি হলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গত দুই বছরে এমনিতেই অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। এতে বহু শ্রমিক বেকার হয়েছেন, পাশাপাশি আশপাশের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, পোশাকশিল্প শুধু মালিকদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের জীবিকাও জড়িত।
এদিকে তদন্তে শতাধিক কারখানার সঙ্গে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে প্রশাসন। তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে রেনেসা গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেপাল গ্রুপের চারটি কারখানার নিয়ন্ত্রণে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নাম এসেছে। তুষকা গ্রুপের কারখানার সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদলের এবং স্টারলিং গ্রুপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া তালিকায় ইসলাম গ্রুপের মালিক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের নাম রয়েছে।
পুলিশের দাবি, শ্রমিক আন্দোলনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতৃস্থানীয় সদস্যও রয়েছেন। বিদেশিদের কাছে দেশের পোশাকশিল্পকে বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল হিসেবে তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল কি না এবং এর পেছনে কারা উসকানি দিয়েছে, তা জানতে আরও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কাঠামোয় বেতন পাওয়ার কথা পোশাকশ্রমিকদের।

































