ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে নেতাদের সঙ্গে বসছেন শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 411

শেখ হাসিনা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সঙ্গে এটিই হবে তার প্রথম সরাসরি বৈঠক।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্য, যারা বর্তমানে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান করছেন, বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও এতে উপস্থিত থাকবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নেই।

তবে ইউরোপে অবস্থানরত দলের এক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, বৈঠকে মূলত দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার ভাষ্য, দিল্লিতে শেখ হাসিনা নেতাদের কাছ থেকে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, তার দেশে ফেরার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ শুনবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, নেত্রী অনেককে ডেকেছেন। বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দেশে-বিদেশে দলটির অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। দলের কিছু নেতা আত্মগোপনে থেকে শেখ হাসিনার ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এদিকে গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কারাবন্দি কয়েকজন নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন ইউনিটের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের কাজও চলছে। ৫ আগস্টের পর যারা সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ বা হয়রানির মুখে পড়েছেন, তাদের নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় নেতাদের অনেককে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’; এই তিন ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে আকাশপথে কিংবা স্থলপথে ফেরার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা যদি ভারতের পেট্রাপোল-বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে ‘টুঙ্গিপাড়ার লং মার্চ’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে আকাশ ও সড়কপথ; দুইভাবেই দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কৌশলগত বিভিন্ন বিষয় এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করতে হবে। শেখ হাসিনার টুঙ্গিপাড়ার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য কৌশলগত বিষয় বিবেচনা করে ফেরার পথ চূড়ান্ত করা হবে।

আবদুর রহমান আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগের কয়েক লাখ নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসবেন। তার মতে, এ জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না; সাধারণ মানুষও তাকে দেখতে বেরিয়ে আসবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নানা কৌশলগত বিষয় রয়েছে। এখনই সব পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে না। চূড়ান্ত হলে এর একটি রূপরেখা জানানো হবে।

দলীয় নেতাদের দাবি, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করে দেশে ফেরার পথ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে পারেন। তারা আরও জানান, শেখ হাসিনা ও দলের কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সম্ভাব্য ফেরার সময় কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকও তার সঙ্গে থাকতে পারেন।

এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী দাবি করেন, বিদেশে থাকা কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন। তার ভাষ্য, এর আগে দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই ভারতে যেতে পারেন এবং সবাই নেত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দিল্লিতে নেতাদের সঙ্গে বসছেন শেখ হাসিনা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সঙ্গে এটিই হবে তার প্রথম সরাসরি বৈঠক।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্য, যারা বর্তমানে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান করছেন, বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও এতে উপস্থিত থাকবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নেই।

তবে ইউরোপে অবস্থানরত দলের এক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, বৈঠকে মূলত দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার ভাষ্য, দিল্লিতে শেখ হাসিনা নেতাদের কাছ থেকে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, তার দেশে ফেরার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ শুনবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, নেত্রী অনেককে ডেকেছেন। বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দেশে-বিদেশে দলটির অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। দলের কিছু নেতা আত্মগোপনে থেকে শেখ হাসিনার ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এদিকে গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কারাবন্দি কয়েকজন নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন ইউনিটের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের কাজও চলছে। ৫ আগস্টের পর যারা সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ বা হয়রানির মুখে পড়েছেন, তাদের নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় নেতাদের অনেককে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’; এই তিন ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে আকাশপথে কিংবা স্থলপথে ফেরার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা যদি ভারতের পেট্রাপোল-বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে ‘টুঙ্গিপাড়ার লং মার্চ’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে আকাশ ও সড়কপথ; দুইভাবেই দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কৌশলগত বিভিন্ন বিষয় এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করতে হবে। শেখ হাসিনার টুঙ্গিপাড়ার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য কৌশলগত বিষয় বিবেচনা করে ফেরার পথ চূড়ান্ত করা হবে।

আবদুর রহমান আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগের কয়েক লাখ নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসবেন। তার মতে, এ জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না; সাধারণ মানুষও তাকে দেখতে বেরিয়ে আসবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নানা কৌশলগত বিষয় রয়েছে। এখনই সব পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে না। চূড়ান্ত হলে এর একটি রূপরেখা জানানো হবে।

দলীয় নেতাদের দাবি, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করে দেশে ফেরার পথ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে পারেন। তারা আরও জানান, শেখ হাসিনা ও দলের কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সম্ভাব্য ফেরার সময় কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকও তার সঙ্গে থাকতে পারেন।

এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী দাবি করেন, বিদেশে থাকা কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন। তার ভাষ্য, এর আগে দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই ভারতে যেতে পারেন এবং সবাই নেত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ