ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ ঋণের পরিমাণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে দেশের মানুষের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের চাহিদা কমানোর চেষ্টা চলছে।

সরকারি ঋণের সুদ ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বোরোয়িং প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগদ অর্থের প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’-এর বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমাতেই এসব সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ ঋণের পরিমাণ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে দেশের মানুষের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের চাহিদা কমানোর চেষ্টা চলছে।

সরকারি ঋণের সুদ ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বোরোয়িং প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগদ অর্থের প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’-এর বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমাতেই এসব সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।