ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকার লোভে বাসে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 75

টাকার লোভে বাসে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসভাড়া দেওয়ার সময় ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাসটির সুপারভাইজার। পরে চালকের সঙ্গে মিলে তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রাখা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। গলায়ও কালো দাগ পাওয়া যায়।

সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন ইসমাইল। তার ছেলে হাসান জীরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের বাসটি শনাক্ত করা হয়। পরে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি জব্দ করে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ও হেলপার মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসচালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী হিসেবে বাসে ওঠেন ইসমাইল। কিছুক্ষণ পর সুপারভাইজার সাজু তার কাছে ভাড়া চাইলে তিনি লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন। এ সময় তার কাছে থাকা বেশ কিছু টাকা সুপারভাইজারের নজরে পড়ে।

পুলিশের দাবি, বিষয়টি বাসচালককে জানান সাজু। ইসমাইলের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে; এমন ধারণা থেকে তাকে টার্গেট করেন তারা। পরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন চালক ও সুপারভাইজার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে নামানো হয়নি। অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দিয়ে ইসমাইলকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে এগিয়ে যায়। তাকে ঘুমিয়ে পড়তে বলা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছালে ডেকে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়ার পর সুপারভাইজার ও হেলপার তার মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটি এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানীর দিকে আসে। পরে ইউটার্ন করে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে যায় আসামিরা।

পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইলের কাছে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিল। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টাকার লোভে বাসে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসভাড়া দেওয়ার সময় ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাসটির সুপারভাইজার। পরে চালকের সঙ্গে মিলে তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রাখা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। গলায়ও কালো দাগ পাওয়া যায়।

সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন ইসমাইল। তার ছেলে হাসান জীরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের বাসটি শনাক্ত করা হয়। পরে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি জব্দ করে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ও হেলপার মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসচালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী হিসেবে বাসে ওঠেন ইসমাইল। কিছুক্ষণ পর সুপারভাইজার সাজু তার কাছে ভাড়া চাইলে তিনি লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন। এ সময় তার কাছে থাকা বেশ কিছু টাকা সুপারভাইজারের নজরে পড়ে।

পুলিশের দাবি, বিষয়টি বাসচালককে জানান সাজু। ইসমাইলের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে; এমন ধারণা থেকে তাকে টার্গেট করেন তারা। পরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন চালক ও সুপারভাইজার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে নামানো হয়নি। অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দিয়ে ইসমাইলকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে এগিয়ে যায়। তাকে ঘুমিয়ে পড়তে বলা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছালে ডেকে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়ার পর সুপারভাইজার ও হেলপার তার মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটি এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানীর দিকে আসে। পরে ইউটার্ন করে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে যায় আসামিরা।

পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইলের কাছে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিল। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।