মেয়ের বিয়ের টাকা উধাও, এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। সেই জমি বিক্রির টাকা থেকে বাকি থাকা ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার আগেই থেমে গেল তার জীবন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া যায়নি নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও বাজারের ব্যাগ।
পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা জালাল উদ্দিন।
নিহতের ছেলে হাসান জানান, ছোট বোন শারমিনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে ঢাকায় আসছিলেন তার বাবা। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এর আগে রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন ইসমাইল। ওই টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন। গ্রামের বাড়িতে ঘর নির্মাণেও কিছু অর্থ খরচ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়েই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
ইসমাইলের সঙ্গে কিছু বাজারসামগ্রী এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোনও ছিল বলে জানান তার ছেলে।
হাসান বলেন, সকালে তার বাবার জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তিনি অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাবার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বাবার কাছে কোনো টাকা, মোবাইল ফোন কিংবা বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি বলে জানান হাসান। তখন তার পরনে শুধু শার্ট ও লুঙ্গি ছিল এবং মুখ স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
ইসমাইল আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছাড়েন তিনি। এরপর প্রায় পাঁচ মাস গাজীপুরের কাশিমপুরে স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করেন। চার মাস আগে স্থায়ীভাবে জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে তার বৃদ্ধ মা ও বড় বোন থাকেন।
এ ঘটনায় ইসমাইলের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে তদন্ত শুরু করেছে বনানী থানা পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তিনি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে পৌঁছালেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





























