নামাজ পড়ে শিশু কলিকে ধর্ষণ, ১৫ মিনিটেই হত্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 55
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মাগরিবের নামাজ পড়ার পর ১০ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) বেনু রায় পিপিএম জানান, রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজ শেষ করার পর কলিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করা হয়। এরপর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পরও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন মোস্তফা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কলিকে খোঁজার সময়ও তিনি ছিলেন। এমনকি নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও অংশ নেন। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তাকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায়। ঘটনার রাতে রাত ১০টার দিকে তিনি আবার নিজের মুদি দোকান খোলেন এবং গোসল করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। এ সময় মোস্তফা তার মোবাইলে শিশুটির কয়েকটি ছবি তোলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সন্ধ্যায় স্থানীয় এক শিশুর মায়ের সঙ্গে কলি দোকানের সামনে বসে ছিল। পরে ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে চলে গেলে কলি সেখানে থেকে যায়। মোস্তফা মাগরিবের নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে কলিকে দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, মোস্তফার মোবাইল ফোনে দোকানে আসা আরও কয়েকজন অল্পবয়সী মেয়ের আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা ছবি পাওয়া গেছে। এসব তথ্য তার পূর্ববর্তী আচরণ সম্পর্কে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অপর আসামি ইয়াসিন আলী অবশ্য ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু মরদেহ গোপনসহ কিছু কাজে সহযোগিতা করেছেন।
এসআই বেনু রায় বলেন, মোস্তফার বক্তব্য অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনায় দুজন জড়িত ছিলেন। তবে ইয়াসিন এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন। ফলে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। নিহত শিশুর আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ডিজিটাল ফরেনসিকসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু ডিজিটাল ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। পরদিন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় কলিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও মোস্তফার স্বীকারোক্তির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিমান্ড শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
































