বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী
সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 39
শ্রমিকদের দাবিকে সামনে রেখে সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫০ বছরে দেশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শিল্পকারখানাগুলো দেশের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবিকার উৎস। কোনো শ্রমিক নিজের কর্মস্থল ও জীবিকার ক্ষতি করতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কলকারখানায় ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যারা এসব করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয় বলে তিনি মনে করেন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
গত ১৫-১৬ বছরে ওই মহল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। এখন আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এর আগে সকালে মোংলা বন্দরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান।






























