ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 43

‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান

বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক শান্তনু কায়সারের সাহিত্যচিন্তা ও সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকারকে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেওয়া হলো ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’। একই অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য প্রকাশিত ১০ খণ্ডের ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্য এবং শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানে তাঁর ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি তাঁর কৃতী ছাত্র শান্তনু কায়সারকে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অঙ্গীকারবদ্ধ লেখক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে ঐতিহ্যের প্রকাশনা কার্যক্রম শুরুর সময় শান্তনু কায়সারের দুটি বই প্রকাশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর তাঁর সমগ্র সাহিত্যকর্ম একসঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে পেরে তারা আনন্দিত।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই ঐতিহ্য তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের প্রকাশনায় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি-লেখকের প্রথম বই প্রকাশের সঙ্গে ঐতিহ্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ও তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করার সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ।

শান্তনু কায়সারের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যনির্দেশক ফয়েজ জহির। তিনি বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন নাটক, সাহিত্য ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নে নিবেদিত একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। তাঁর রচনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব পালন করেছে।

এবারের পুরস্কারের তিনটি বিজয়ী গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান। পুরস্কার পেয়েছে কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনের কবিতার বই ‘ফেনাফুল’, জুবায়ের রশীদের ডকুফিকশন ‘গালিবের মুশায়েরায়’ এবং নাট্যকার শরণ এহসানের নাটক ‘পুরনামা’।

পাপড়ি রহমান বলেন, তিনটি পুরস্কারপ্রাপ্ত বইই মানসম্মত। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, কল্পনা ও বাস্তবতাবোধের বিস্তৃতি ও গভীরতার পরিচয় পাওয়া যায় এসব গ্রন্থে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন লেখককে ৫০ হাজার টাকা করে, ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের পুরস্কারপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ঐতিহ্য থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হেমায়েত উল্লাহ ইমন, জুবায়ের রশীদ ও শরণ এহসান বলেন, ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ ইতোমধ্যে সাহিত্যাঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও তরুণদের আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এ স্বীকৃতি তাঁদের ভবিষ্যৎ সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র সম্পাদক ও শান্তনু কায়সারের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল রায়হান। তিনি একজন প্রচারবিমুখ গুণী লেখকের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম পাঠকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তরুণ লেখকদের মধ্যে এ পুরস্কার সাড়া ফেলায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন প্রাবন্ধিক, গবেষক, কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ; এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। তাঁর সাহিত্য পাঠকের চিন্তা ও চেতনাকে সমৃদ্ধ করে। ১০ খণ্ডে তাঁর রচনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের স্বীকৃতি দেওয়ার এই আয়োজন ভবিষ্যৎ সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করবে। একজন গুণী পূর্বসূরির নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কার নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার স্মারক হয়ে থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক শান্তনু কায়সারের সাহিত্যচিন্তা ও সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকারকে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেওয়া হলো ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’। একই অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য প্রকাশিত ১০ খণ্ডের ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্য এবং শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানে তাঁর ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি তাঁর কৃতী ছাত্র শান্তনু কায়সারকে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অঙ্গীকারবদ্ধ লেখক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে ঐতিহ্যের প্রকাশনা কার্যক্রম শুরুর সময় শান্তনু কায়সারের দুটি বই প্রকাশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর তাঁর সমগ্র সাহিত্যকর্ম একসঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে পেরে তারা আনন্দিত।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই ঐতিহ্য তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের প্রকাশনায় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি-লেখকের প্রথম বই প্রকাশের সঙ্গে ঐতিহ্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ও তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করার সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ।

শান্তনু কায়সারের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যনির্দেশক ফয়েজ জহির। তিনি বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন নাটক, সাহিত্য ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নে নিবেদিত একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। তাঁর রচনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব পালন করেছে।

এবারের পুরস্কারের তিনটি বিজয়ী গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান। পুরস্কার পেয়েছে কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনের কবিতার বই ‘ফেনাফুল’, জুবায়ের রশীদের ডকুফিকশন ‘গালিবের মুশায়েরায়’ এবং নাট্যকার শরণ এহসানের নাটক ‘পুরনামা’।

পাপড়ি রহমান বলেন, তিনটি পুরস্কারপ্রাপ্ত বইই মানসম্মত। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, কল্পনা ও বাস্তবতাবোধের বিস্তৃতি ও গভীরতার পরিচয় পাওয়া যায় এসব গ্রন্থে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন লেখককে ৫০ হাজার টাকা করে, ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের পুরস্কারপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ঐতিহ্য থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হেমায়েত উল্লাহ ইমন, জুবায়ের রশীদ ও শরণ এহসান বলেন, ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ ইতোমধ্যে সাহিত্যাঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও তরুণদের আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এ স্বীকৃতি তাঁদের ভবিষ্যৎ সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র সম্পাদক ও শান্তনু কায়সারের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল রায়হান। তিনি একজন প্রচারবিমুখ গুণী লেখকের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম পাঠকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তরুণ লেখকদের মধ্যে এ পুরস্কার সাড়া ফেলায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন প্রাবন্ধিক, গবেষক, কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ; এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। তাঁর সাহিত্য পাঠকের চিন্তা ও চেতনাকে সমৃদ্ধ করে। ১০ খণ্ডে তাঁর রচনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের স্বীকৃতি দেওয়ার এই আয়োজন ভবিষ্যৎ সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করবে। একজন গুণী পূর্বসূরির নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কার নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার স্মারক হয়ে থাকবে।