ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রাবণ সন্ধ্যায় শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 7

শ্রাবণ সন্ধ্যায় শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক আয়োজনে তারা এ আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কবিতা, আলোচনা, সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের দেড় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি ও চিত্রশিল্পী শেখ রবিউল হক এবং দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন নাট্যজন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কাওসার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও গবেষক কামরুল ইসলাম মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন।

প্রতিপাদ্যে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, সহিংসতা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে মানবজীবন, প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ বাস্তবতায় সাহিত্য-সংস্কৃতির সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় লেখক-শিল্পীদের মুক্ত মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুরক্ষা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ বিকাশ, শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠনগুলোর জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রয়াত চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত হালদারের কর্মজীবন ও অবদান স্মরণ করা হয়। তাঁর শিল্পকর্ম, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং সংগ্রহশালা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন শেখ রবিউল হক, ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন, নাজিব তারেক, ফারজানা ইয়াসমিন ও কামরুল ইসলাম।

দ্বিতীয় পর্বে নৃত্যশিল্পী এগনেস র‌্যাচাল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস ও তাঁর দল সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি একক নৃত্য পরিবেশন করেন আলেকজান্দ্রিয়া আমীর। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা সাতটি নজরুলগীতি পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আহমেদ রেজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি, সিরাজুল হক খান, আবুল হায়াত হেদায়েত, মাহবুব জামান, লিনু হক, জয়ন্তী রায়, কবি রহীম শাহ, কবি আসাদুল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট কবি, লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শ্রাবণ সন্ধ্যায় শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক আয়োজনে তারা এ আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কবিতা, আলোচনা, সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের দেড় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি ও চিত্রশিল্পী শেখ রবিউল হক এবং দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন নাট্যজন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কাওসার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও গবেষক কামরুল ইসলাম মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন।

প্রতিপাদ্যে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, সহিংসতা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে মানবজীবন, প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ বাস্তবতায় সাহিত্য-সংস্কৃতির সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় লেখক-শিল্পীদের মুক্ত মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুরক্ষা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ বিকাশ, শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠনগুলোর জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রয়াত চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত হালদারের কর্মজীবন ও অবদান স্মরণ করা হয়। তাঁর শিল্পকর্ম, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং সংগ্রহশালা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন শেখ রবিউল হক, ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন, নাজিব তারেক, ফারজানা ইয়াসমিন ও কামরুল ইসলাম।

দ্বিতীয় পর্বে নৃত্যশিল্পী এগনেস র‌্যাচাল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস ও তাঁর দল সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি একক নৃত্য পরিবেশন করেন আলেকজান্দ্রিয়া আমীর। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা সাতটি নজরুলগীতি পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আহমেদ রেজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি, সিরাজুল হক খান, আবুল হায়াত হেদায়েত, মাহবুব জামান, লিনু হক, জয়ন্তী রায়, কবি রহীম শাহ, কবি আসাদুল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট কবি, লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।